kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাজধানীতে মানববন্ধন-সমাবেশ

নারীর অগ্রগতি-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবধরনের নির্যাতন বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ১৭:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারীর অগ্রগতি-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবধরনের নির্যাতন বন্ধের দাবি

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস), ইউবিআর অ্যালান্স ও এফপিএবি যৌথভাবে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে নারীর অগ্রগতি ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সকল ধরণের নির্যাতন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা ওই দাবি বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে ‘নারীর জন্য বিশ্ব গড়ো, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করো, সহিংসতা প্রতিরোধ করো’ শ্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মানবন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপিএস’র উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমী। সমাবেশে বক্তৃতা করেন এফপিএবি’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক হালিমা বেগম, বিএনপিএস’র ইউথ গ্র“পের প্রতিনিধি ফারজানা আক্তার ও উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা মানবেন্দ্র দেব, বিএনপিএস’র ঢাকা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শেলিনা পারভীন ও সমন্বয়কারী নাসরীন বেগম, এফপিএবি’র ইউথ গ্র“পের প্রতিনিধি মিতু প্রমুখ।
সমাবেশে হালিমা বেগম বলেন, করোনাভাইরাস মহামারিতে সারা বিশ্বের মানুষ যখন বেঁচে থাকা নিয়ে আতঙ্কিত, তখনো নারীর ওপর চলছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ধর্ষণ, তালাকসহ নানা ভয়াবহ সহিংসতা অনেক বেড়ে যাওয়ায় চরম অনিরাপত্তায় ভুগছে নারীরা।

বক্তারা বলেন, ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ধর্ষণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘর্ষকালীন এমনকি গণতান্ত্রিক পরিবেশেও ধর্ষণের ঘটনাকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নারীকে অবদমন করে রাখার পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে সাধারণত ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে শাহনাজ সুমী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগ নারীর জন্য কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়। এদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং এদেশকে এগিয়ে নিয়ে নারীদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশে বক্তারা সারাদেশে নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা- ধর্ষণ, নারী-শিশু নিপীড়ন ও বিচারহীনতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন এক ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়ন ঘটে চলছে। একটা ঘটনা বর্বরতায় ও বিভৎসতায় আগেরটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। ঘরে, বাইরে, পাহাড়ে, সমতলে, পথে, গণপরিবহনে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল স্থানেই নারী-শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তারা আরো বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সমাজের পৃষ্টপোষকতার কারণে ধর্ষকরা উৎসাহিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত দেশের এই অরাজক অবস্থা কারো কাঙ্খিত নয়। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা