kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অক্সফোর্ড টিকার দেরিতে দুশ্চিন্তা

তৌফিক মারুফ    

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ০২:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অক্সফোর্ড টিকার দেরিতে দুশ্চিন্তা

আগেভাগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনিকার টিকা পেতে চুক্তি করেও এখন ক্রমেই টেনশন বাড়ছে সরকারের। এই টিকা উন্নয়নের ধীরগতিতে কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে যদি অক্সফোর্ডের টিকার ক্ষেত্রে বেশি দেরি হয়ে যায় আর তার আগে অন্য টিকা অনুমোদন পেয়ে যায়, তবে কী হবে—সেটাই চিন্তায় ফেলছে দেশের বিশেষজ্ঞদের। কারণ, এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মাধ্যমের টিকার নাগাল মেলেনি। দেশে শুধু পিছিয়ে যাচ্ছে বিদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের টিকার ট্রায়াল। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে হয়-হচ্ছে-করেই।

এর মধ্যে চীনের সিনোভেক টিকার ট্রায়াল ভেস্তে গেছে। আইসিডিডিআরবির বিশেষ সূত্র কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে, সিনোভেকের ট্রায়াল আর তারা করছে না। তবে আইসিডিডিআরবির হাতে অন্য চারটি ট্রায়ালের প্রক্রিয়া ঝুলছে। এগুলো হচ্ছে ফ্রান্সের সানোফি পাস্তুর, ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক, চীনের অন্য একটি কম্পানি এবং বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেক। তবে এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত দ্রুতগতি পায়নি। এমনকি এই চারটি ট্রায়ালের একটিরও প্রটোকল জমা দেওয়া যায়নি বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্স কাউন্সিলের (বিএমআরসি) কাছে, যারা এই প্রটোকল অনুমোদন করলেই পরবর্তী সময় যাবে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায়।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সানোফি পাস্তুরের আরেকটি ট্রায়ালের প্রক্রিয়া কিছুটা এগিয়ে আবার চলছে ধীরগতিতে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চুক্তি হয়-হচ্ছে করেও আর হয়নি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মা ও শিশু) ডা. মো. সামশুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে গ্যাভির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছি। ৭ ডিসেম্বর থেকে গ্যাভি-কোভেক্স আবেদন জমা নেওয়া শুরু করবে। সেখানে অনেকটা আগে এলে আগে পাবেন অবস্থা। কার আগে কে আবেদন জমা দিতে পারবে, তা নিয়ে এক ধরনের হুড়োহুড়ি পড়ে যেতে পারে। তাই আমরা ৭ তারিখেই আবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, ‘আবেদনে কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পাবে, কিভাবে আবেদন করতে হবে—এসব আগেই গ্যাভি থেকে আমরা ধারণা পেয়েছি। সেই ফরমেট ধরেই সব কিছু তৈরি হচ্ছে।’

এর পরই ডা. সামশুল হক শোনান হতাশার কথা। বলেন, ‘আমরা তো এক রকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েই গেলাম। কারণ আমরা অনেক আশা নিয়ে যে অক্সফোর্ডের টিকা পেতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। সেটি নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এখন আবার শুনছি আরো বড় ধরনের ট্রায়াল হবে—তাতে এটা তো আরো পিছিয়ে যাবে।’

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, সানোফি পাস্তুরের সঙ্গে চুক্তির ভেতরে কি থাকবে-না থাকবে, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে, এ জন্য কিছুটা সময় লাগছে। তবে আশা করি, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন করা যাবে।

তবে ট্রায়াল নিয়ে একের পর এক ধীরগতি বা কিছুটা এগিয়ে আবার পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ সন্দেহজনক বলেও মনে করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি পর্যায়ের একাধিক বিজ্ঞানী কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক ধরে ট্রায়াল হয়-হচ্ছে শুনছি। প্রটোকল তৈরি কিংবা চুক্তিতে এত সময় লাগার কথা নয়। এর নেপথ্যে হয়তো অন্য কোনো বিষয় থাকতে পারে।

আইসিডিডিআরবির একজন বিজ্ঞানীও কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ আমাদের রয়েছে, সেভাবে গতি দেখছি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘একদিকে আমাদের দেশে ট্রায়াল পিছিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে আমাদের সরকার সবার আগে টিকা পাওয়ার সহজ সুযোগ হিসেবে সেরাম ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে চুক্তি করেছে, কিন্তু তাদের অক্সফোর্ডের টিকা অন্যদের তুলনায় ধীরে এগোচ্ছে নানা কারণে। এটাও আমাদের দেশের জন্য হতাশা বয়ে আনছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের উচিত হাতে আরো সোর্স রাখা।’

আরেক টিকা বিশেষজ্ঞ বলেন, এখন এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে আগামী ১০-১২ ডিসেম্বরের মধ্যেই কোনো না কোনো টিকার দুয়ার খুলে যাবে এফডিএর মাধ্যমে। এরপর বাকিগুলোও আসতে থাকবে। অন্ততপক্ষে পাঁচটি টিকা নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায় এখন পর্যন্ত। ফলে বাংলাদেশেরও একই ধারায় এগিয়ে যাওয়া উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা