kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিএনপিএস আয়োজিত আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা

‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকিদাতারা সংবিধানবিরোধী কাজ করেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ১৯:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকিদাতারা সংবিধানবিরোধী কাজ করেছে’

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকিদাতারা রাষ্ট্র ও সংবিধানবিরোধী কাজ করেছে। এরা প্রশ্রয় পেলে শহীদ মিনার ও স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আপত্তি জানাতেও কসুর করবে না। তাই স্বাধীনতাবিরোধী এই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

রবিবার ‘সমতার লক্ষ্যে ইহজাগতিকতার চর্চা’ বিষয়ক এই অনলাইন আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর। মূল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান। আলোচনায় অংশ নেন ড. হান্নানা বেগম, ডা. সামিনা চৌধুরী, মৃণাল কান্তি সরকার, সুরজিত ভৌমিক, মুক্তি মহানায়ক ও মুজিব মেহদী।

সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা ও নারীনেত্রী রোকেয়া কবীর ভাস্কর্য ও মূর্তিবিষয়ক বিতর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মূর্তি বা ভাস্কর্য কোনোটাই ভাঙা যাবে না। এটা সকলকে মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সেক্যুলার নীতি এবং সংবিধানোক্ত সমতার নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে দেশে ধর্মীয়, লিঙ্গীয় ও জাতিগত আধিপত্যমুক্ত একটি পরিবেশ তৈরি হবে, যা ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতি নির্বিশেষে মানুষে মানুষে সমতা প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করবে।

ড. কাবেরী গায়েন বলেন, সকল ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও জাতির মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় ধর্মনিরপেক্ষতা; পাশাপাশি রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে দেওয়া হয় সমান অধিকার ও মর্যাদা। কিন্তু ১৯৭৫-এর পরে সংবিধানে যারা সাম্প্রদায়িক পরিবর্তনগুলো আনে তাদের জনভিত্তি ছিল না। তারা জনগণের আবেগকে কাজে লাগিয়ে সামরিক শাসনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। এখনো অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। তাই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কঠোর হস্তে দমনে উদ্যোগ না হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও অন্যবিধ কারণে দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির ক্রমবিকাশের রাশ টেনে না ধরায় সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপ যেমন বেগবান হয়েছে, তেমনি বন্ধ হয়নি ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারও। তাই ওই অপশক্তি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার আওয়াজ তোলার সাহস পাচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সরকার ও জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা