kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনাকালেও লক্ষাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল

আলতাফ হোসেন মিন্টু, কেরানীগঞ্জ   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:৩৫ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



করোনাকালেও লক্ষাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল

সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক এবং মা ও শিশু, জেনারেল, সার্জারি, চক্ষু রোগীদের সেবার মধ্য দিয়ে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। গুটি গুটি পায়ে বর্তমানে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালটি। ডাক্তার-রোগীর মধ্যে কোনো বৈষম্য না রেখে রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক হয়ে সেবা প্রদান করাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য।

বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটিতে গরিব ও প্রান্তিক রোগীদের কথা চিন্তা করে, গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদান, শিশু বিভাগ এবং জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখেছে। হাসপাতালটি বুড়িগঙ্গা নদীর পোস্তগোলা (চীন মৈত্রী) সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে হেঁটে গেলে ১০ মিনিট আর রিকশায় ২০ টাকা ভাড়া। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ আবাসিক এলাকায় মনোরম পরিবেশে ৩৫০ শয্যা বিশিষ্ট সাততলা ভবন নিয়ে গড়ে উঠেছে এই হাসপাতালটি। ২০১২ সাল থেকেই কেরানীগঞ্জ ও এর আশপাশের উপজেলার রোগীদের উন্নত মানের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালটি। করোনাকালীন যেখানে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে লক্ষাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল।

বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উপব্যবস্থাপক মো. সিদ্দিকুর রহমান সুমন জানান, ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মা ও শিশু, চক্ষু, জেনারেল এবং জরুরি বিভাগ দিয়ে আমাদের এই হাসপাতালের যাত্রা শুরু করি। বর্তমানে আমাদের এই হাসপাতালে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, ডেন্টাল, সব ধরনের সার্জারি, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, অর্থপেডিকস, প্লাস্টিক সার্জারি ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা  দিয়ে আসছি। পাশাপাশি ঠোঁট কাটা, তালু কাটা ও আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের এই হাসপাতালে চোখের ফ্যাকো অপারেশন করা হচ্ছে। যা সুবিধাবঞ্চিত রোগীর পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাই সম্ভব নয়। সেখানে স্বল্পমূল্যে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তা করে দিচ্ছে। এমনকি করনাকালীন যেখানে অন্যান্য বেসরকারি হাসাপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিগত কয়েক মাসে আমাদের হাসপাতালে অপারেশন হয়েছে তিন হাজারের বেশি। যার মধ্যে নরমাল ডেলিভারি ও সিজারিয়ান ডেলিভারিই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া চোখের অপারেশন, ইএনটি, গাইনি ও অর্থোপেডিকস অপারেশন হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিগত ১১ মাসে এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৮১ হাজার ৮৩৪ জন রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৩ হাজার ৫২৪ জন শিশু, গাইনি ৪ হাজার ৬৩৩ জন, প্রেগন্যান্সি রোগী ১২ হাজার ৫৯৬ জন, অর্থোপেডিক ৬ হাজার ৫৭২, মেডিসিন রোগী ৯ হাজার ৯২৮ জন ছাড়া আরো বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের কাছে সুনাম পেয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনাই বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের মূল লক্ষ্য। এই হাসপাতালের সাধারণ রোগীদের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমানে এর চাহিদা সব শ্রেণির মানুষের কাছে। এ ছাড়া হাসপাতালে বিনা মূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি সুবিধাবঞ্চিত রোগীর ছানি অপরাশেন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রসূতি মায়েদের সিজার করাতে যেখানে অন্যান্য হাসপাতালে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থাকা-খাওয়া, ওষুধসহ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় করে থাকে। যা একাট গরিব রোগীর হাতের নাগালে। হাসপাতালের পরিবেশ, খরচ ও অন্যান্য সুবিধার জন্য বর্তমানে গরিব রোগীর পাশাপাশি ধনীরাও চলে আসছে চিকিৎসাবা নিতে। স্বাস্থসেবা প্রদানে হাসপাতাল বা ডাক্তারদের একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সকল শ্রেণির লোকজনকে স্বাস্থ্য সচেতনার দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে গিয়ে সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজনদের সাথে হাসপাতালের চিকিৎসার মান ও সেবার বিষয়ে কথা হয়।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানার আলমপুর এলাকার রাহেলা বেগম জানান, বসুন্ধরা আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি তার ৬ মাস বয়সের শিশুকে জ্বর ও ঠান্ডার চিকিৎসা করাতে এসেছেন। এখানকার চিকিৎসার মান ও পরিবেশ খুবই ভালো এবং খরচও অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় খুব কম এবং এখানকার ডাক্তাররা অনেক দায়ীত্বশীল এবং মিশুক।

বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুনাম শুনে নোয়াখানী সোনাইমুড়ি থেকে সেবা নিতে আসা নাসিমা আক্তার জানান, তার পেটের পাকেস্থলিতে পাথর হয়েছে। তিনি এখানে মাত্র ১৭০০০ টাকায় পাকেস্থলি অপারেশন করিয়েছেন। এখন বর্তমানে সুস্থই আছেন।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর বালুরচর থেকে কুলসুম বেগম জানান ,তার গ্রামে ও হাসপাতাল রয়েছে। বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মান ও সুনাম শুনে এখানে পেটের পাকেস্থলির পাথর অপারেশন করান। এতো কম টাকায় মানুষ সেবা পায় আমি অবাক।

গাজীপুর থেকে আসা জোসছনা বেগম বলেন, আমি গাজীপুর থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বেড়াতে এসেছি। এখানে আসার পর আমার মেয়ে ডায়রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। কয়েকটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিলাম। পরে আমার এক আত্মিয়ের মুখে এই হাসপাতালের নাম শুনে এখানে ভর্তি করি। এখানে ভর্তি করার পর অল্প সময় চিকিৎসার মাধ্যমে আমার মেয়ে ভালো হয়েছে।

গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. আরিফা জাহান সোমার বলেন, বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মায়েদের বন্ধাত্ব ও টেস্ট টিউব বেবীদের নিয়ে কাজ শুরু করছে। এ বিষয়ে হাসপাতালে বেশ কয়েকজন ট্রেনিংপ্রাপ্ত ডাক্তার রয়েছেন। যারা সার্বক্ষণিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মরিয়ম বেগম বলেন, এখানকার পরিবেশ খুবই ভালো। আমাদের এখানে যেসমস্ত নবজাতক ভর্তি হয় তাদের মধ্য ভেন্টিলেটর সাপোর্ট বাদে সবধরনের সাপোর্ট দিয়ে থাকি। আমাদের হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে মোট ৪০টি বেড আছে। যার মধ্যে প্রায় ২৫টি বেডে সবসময় রোগী থাকে।

বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গাজী মো. জাকির হোসাইন বলেন, বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যালে আমরা সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা এবং অপারেশন সম্পন্ন করে থাকি। এখানে সকল প্রকার সার্জারি-অপারেশন করা যায়। ইনক্লোডিং, গলব্লেডার, এপানডিসাইড, লেপারস্কোপি অপারেশন করা হয়। এ ছাড়া আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন সকালে আসে, তাদেরকে অটিতে নিয়ে অপারেশন শিখানো এবং কেমিক্যাল ক্লাস নেওয়া হয়। আমদের এখানে প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী কাজ করা হয়।

বসুন্ধরা আদ্ব-দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, চক্ষু বিভাগের প্রধান ও ফ্যাকো সার্জন ডা. রুহুল আমনি বলেন, ডাক্তার রোগীর মধ্যে কোনো বৈষম্য না রেখে রোগীদের সাথে আন্তরিক হয়ে সেবা প্রদান করাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের মূল লক্ষ। ডাক্তার রোগীদের সাথে বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার নিয়ে বসুন্ধারা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দিন দিন কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জের প্রতিটি মানুষের কাছে আহ্বান আমাদের এই হাসপাতালে আপনারা আসুন, আমাদের সেবা গ্রহণ করুন এবং আমাদের আরো উন্নত করার জন্য পরামর্শ দিয়ে যান। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা