kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কোভ্যাক্সের ভ্যাকসিন ফেব্রুয়ারিতে

প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের ভ্যাকসিনের আগাম সংস্থান হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোভ্যাক্সের ভ্যাকসিন ফেব্রুয়ারিতে

গ্যাভি-কোভ্যাক্সের অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বিতরণ শুরু হবে। বাংলাদেশও তখন এই ভ্যাকসিন পাবে। প্রথমে দেশে আসবে মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশ ভ্যাকসিন। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে আরো ১৭ শতাংশ পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ অর্থাৎ ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ বা তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ। তবে পরবর্তী সময়ে নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আরো ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মোট ১৩ কোটি মানুষের ভ্যাকসিন কোভ্যাক্স থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদের উপস্থিতিতে সভায় অধিদপ্তরের পরিচালক (মা ও শিশু) ডা. সামসুল হক জানান, এরই মধ্যে কারিগরি টিম দেশে কিভাবে ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা হবে তার একটি  পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনা আগামীকাল গ্যাভির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এ ছাড়া ভ্যাকসিন দেশে আনার চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মূল চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।

এই পরিচালক জানান, কোভ্যাক্সভুক্ত ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজের দাম পড়বে ১.৬ থেকে ২ ডলার। প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রয়োগ পর্যন্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ১.২৫ ডলার খরচ ধরে মোট ৩১৭ কোটি ৮৬ লাখ ১৩ হাজার ২২০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে কোভ্যাক্সের বাইরে সরকার ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও দেশের বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে অক্সফোর্ডের তিন কোটি ডোজ টিকার জন্য চুক্তি করেছে, যা দেড় কোটি মানুষকে দুই ডোজ করে দেওয়া যাবে। এই ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজের দাম পড়বে চার ডলার এবং পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে আরো এক ডলার। অর্থাৎ সরকার প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের জন্য পাঁচ ডলার ওই কম্পানিকে দেবে।

পরিচালক জানান, ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ৭৩৫ কোটি টাকা দিয়েছে। আরো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে এই ভ্যাকসিন ছাড়াও রাশিয়া, সানোফি ও ফাইজারের সঙ্গে সরকার যোগাযোগ রাখছে। কিন্তু তাপমাত্রাজনিত কারিগরি সমস্যার কারণে কোনো কোনো ভ্যাকসিন দেশে ব্যবহার করা নিয়ে জটিলতা আছে।

সভায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যান্য শাখার বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দরগুলোতে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের সনদ সঙ্গে নিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসচেতনতা, হাসপাতালে আইসিইউর সংখ্যা বৃদ্ধি, মাঠপর্যায়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা জোরালো করা, পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো, দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।

সভায় সিএমডির পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান জানান, গত ৩ জুন তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট ৪৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৬২ হাজার টাকার বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা হয়েছে। এর মধ্যে সরবরাহকারীদের বিল বাবদ ২১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকিটা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। এই কেনাকাটা সবটাই শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে। তিনি জানান, এখন আর করোনা টেস্ট কিটের কোনো সংকট নেই বা সংকট হওয়ারও আশঙ্কা নেই। কারণ পর্যায়ক্রমে কিট আসছে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ও অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহলীনা ফেরদৌসী, অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরীন, ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া, উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. মারুফুর রহমান অপুসহ অন্যরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা