kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিইউপিতে যাত্রা শিক্ষাবান্ধব সফটওয়্যারের

অনন্য দৃষ্টান্ত : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিইউপিতে যাত্রা শিক্ষাবান্ধব সফটওয়্যারের

ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষা কার্যক্রম আরো যুগোপযোগী করতে একাধিক শিক্ষাবান্ধব সফটওয়্যারের উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিজয় অডিটরিয়ামে কম্প্রিহেনসিভ লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএলএমএস), রিমোট প্রক্টরিং ও প্লেজিয়ারিজম চেকার’ শীর্ষক শিক্ষাবান্ধব সফটওয়্যারের উদ্বোধন করা হয়।

বিইউপি উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

জানা যায়, করোনা মহামারির শুরু থেকেই বিইউপির অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম যেকোনো প্রতিকূলতার মাঝেও সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য এই সফটওয়্যার প্রবর্তন করা হয়েছে। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষার্থীদের সার্বিক একাডেমিক অগ্রগতিবিষয়ক রিপোর্ট, প্রত্যেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রফাইল ব্যবস্থাপনা, ভিডিও আপলোড, যেকোনো ধরনের পরীক্ষা গ্রহণ এবং তা রিমোট প্রক্টরিংয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া থিসিস, টার্ম পেপার ও অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ,  ‘টার্ন-ইট-ইন’ প্লেজারিজম চেকার অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখার মৌলিকত্ব ও স্বচ্ছতা যাচাই করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন সারা বিশ্বে শিক্ষাকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে, সেখানে বিইউপি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই বিশ্ব স্থবিরতার মাঝে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিইউপি শুরু থেকেই অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষাসহ অন্য সব প্রশাসনিক কাজ সচল রেখেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিইউপি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অনন্য।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক মহামারির প্রথম ঢেউয়ে প্রায় সব কিছু বন্ধ। সেখানে বিইউপি গত মার্চ মাস থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে শতভাগ ক্লাস পরিচালনা করেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলার এই সময়েও বিইউপির কার্যক্রম না থেমে আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সুবিধাসংবলিত সফটওয়্যার চালু হয়েছে। বিইউপির আজকের এই সফটওয়্যার প্রবর্তন নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান বলেন, ‘বিইউপিকে একটি ওয়ার্ল্ড র্যাংকড ইউনিভার্সিটির পথে অগ্রসর করার অভীষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েছি। একাডেমিক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান-২০৩০ প্রণয়নের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পরও ডিজিটাল এলএমএস ব্যবহারের মাধ্যমে ব্লেনডেড শিক্ষা কার্যক্রম, বিশেষত প্রফেশনাল মাস্টার্স ও অন্যান্য স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কার্যক্রম চলমান রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গবেষণায় বিশেষভাবে জোর দেওয়াসহ শিক্ষার সার্বিক গুণগত মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, সিনেট সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্যরা, বিইউপির বঙ্গবন্ধু চেয়ারের অধ্যাপক, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্যরা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, বিইউপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা