kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী: চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবেন ঠিকাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০২:৩৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী: চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবেন ঠিকাদার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘চলমান কাজ শেষ না করে পরের কাজ পাবে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আমাদের অনেক নির্মাণ প্রকল্পে দেরি হয়ে যায়। এই দেরির কারণ একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনেকগুলো কাজ পেয়ে থাকে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কে কতগুলো কাজ পেয়েছে, কাজগুলো সময়মতো শেষ করেছে কি না, কোন সময় শেষ করেছে, এসবের একটি তালিকা সব মন্ত্রণালয় তৈরি করবে এবং তা প্রকাশ করতে হবে। চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবে। এতে আমাদের নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে নির্মাণকাজের জন্য, মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত থাকব না। আমাদের নির্মাণকাজও সময়মতো শেষ হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একনেক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ১০ হাজার ৭০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা খরচে সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ছয় হাজার ৪৫৯ কোটি ২৭ লাখ এবং বিদেশি উৎস থেকে ঋণ হিসেবে আসবে চার হাজার ২৪২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।

আসাদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘রাস্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাস্তা টেকসই ও ভালো রাখার জন্য রাস্তার পাশে জলাধার কিংবা বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। বিশেষত হাইওয়ের পাশে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষত যাঁরা লং ড্রাইভ করেন বা অন্যান্য যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় থাকেন, তাঁদেরকে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে।’

আসাদুল ইসলাম জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রাণিপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর’ প্রকল্প রয়েছে। এতে খরচ হবে ১১৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ প্রকল্পে খরচ হবে এক হাজার ৩৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রগ্রাম (ইউকেয়ার) ফেজ-১ : রুরাল কানেকটিভিটি, মার্কেট অ্যান্ড লজিস্টিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (আরসিএমএলআইআইপি)’ প্রকল্পে খরচ হবে দুই হাজার ১৮০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তার মধ্যে ৬৪৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা দেবে সরকার এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে এক হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘উইকেয়ার ফেজ-১ : ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন’ প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। তার মধ্যে সরকার দেবে এক হাজার ৪৮২ কোটি পাঁচ লাখ এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে দুই হাজার ৭০৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘পায়রা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদির উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। এখন ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৩৭৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে তা বাড়িয়ে করা হয় তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ‘শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী স্থাপন-প্রথম পর্যায় (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পে খরচ বেড়েছে ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ২৫৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এবার বাড়িয়ে করা হলো ৩০৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ)-দ্বিতীয় পর্যায়’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সভায় কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী অংশ নেন। সভায় মন্ত্রিপরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা