kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন নিয়ে কাজ করছে মিটিসল লিমিটেড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ২০:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন নিয়ে কাজ করছে মিটিসল লিমিটেড

এহসান হক ও রেজাউর রহমান (ডানে)

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনোভাবে অনলাইন ক্লাস চললেও পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না। এতে সেশনজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শিক্ষার ডিজিটালাইজেশনে এগিয়ে এসেছে ‘মিটিসল লিমিটেড’ নামের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের উদ্ভাবিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে যে কোনো প্রতিকূলতার মাঝেও সুচারুভাবে অনলাইন শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। এরই মধ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সফটওয়্যারগুলো নির্বিঘ্নে ব্যবহার শুরু করছে।

জানা যায়, মিটিসল লিমিটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এহসান হক। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকবৃন্দের মধ্যে রেজাউর রহমান, মো. বজলুল হক বায়জীদ, কর্নেল (অব.) সহিদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার হামিদ মিসবাহ অন্যতম। তারা দেশে নিরাপদ ইন্টারনেট প্রবর্তনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইন্টারনেট সেফটি ফর সেফটি ফাউন্ডেশন (বিআইএসসি) নামের একটি সংস্থাও পরিচালনা করছেন। 

মিটিসল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বজলুল হক বায়জীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার এই প্রাদুর্ভাব কতদিন থাকবে তা বলা যাচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। প্রচলতি অনলাইন মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে। আমরা সাইবার সিকিউরিটির পাশাপাশি লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করছি। এর মাধ্যমে দেশের তথ্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি)-এর এক্সাম প্রক্টরিং উন্নয়নে আমরা কাজ করেছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই ঘরে বসে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে পারবে।’ 

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে যে কোনো প্রতিকূলতার মাঝেও সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য মিটিসল লিমিটেডের সফটওয়্যার প্রবর্তন করা হয়েছে। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষার্থীদের সার্বিক একাডেমিক অগ্রগতি বিষয়ক রিপোর্ট, প্রত্যেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, ভিডিও আপলোড, যে কোনো প্রকার পরীক্ষা গ্রহণ এবং তা রিমোট প্রক্টরিংয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়াও থিসিস, টার্মপেপার এবং অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ যা ‘টার্ন-ইট ইন’ প্লেজিয়ারিজম চেকার অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখার মৌলিকত্ব ও স্বচ্ছতা যাচাই করা সম্ভব হবে। 

এহসান হক আগে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডে কাজ করেছেন। একটি বিয়োগান্তক ঘটনার জন্য তিনি তার ব্যাংকার জীবনের অবসান ঘটান। তবে তিনি তার পেশার কারণে ইন্টারনেট ও ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে শিখেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও সুইজাল্যান্ডেও কাজ করছেন। তিনি তার মরহুম পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিনুল হকের মতো বাংলাদেশের কল্যাণে আরো বেশি কাজ করতে চান। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করতে গিয়ে তাঁর লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশে কাজে লাগাতে চান। 

মিটিসল লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রেজাউর রহমান মোটরগাড়ি শিল্পে একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে বিএমএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। জননেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের প্রোপৌত্র। চলমান করোনাকালীন দেশের শিশুদের কথা চিন্তা করে তিনি ‘লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস) উদ্ভাবন করেছেন। 

জানা যায়, আমরা বর্তমানে ডিজিটাল যুগে বাস করছি। এখন সবকিছুই ত্বরিত, দ্রুতগামি ও সহজলভ্য। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ দ্রুত সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের দূরদর্শী নীতিমালার কারণে বাংলাদেশ এ ব্যাপারে বহু দেশকে ছাপিয়ে গেছে। কিন্তু তা আরো পরিপক্ক ও উন্নত করার সুযোগ আছে। তবে ইন্টারনেট ও ডিজিটালাইজেশনের সঙ্গে বহু ঝুঁকি ও বিপদ জড়িয়ে আছে। হ্যাকার বা জাল কারবারিরা হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দেশবাসীর জীবন সুরক্ষায় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সমাধান নিশ্চিত করতে কাজ করছে মিটিসল লিমিটেড ও বিআইএসসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা