kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিইউপিতে শিক্ষাবান্ধব সফটওয়্যারের উদ্বোধন

দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিইউপি, বলছেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ১৯:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিইউপিতে শিক্ষাবান্ধব সফটওয়্যারের উদ্বোধন

ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি)-এর শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো যুগোপযোগী করতে একাধিক শিক্ষাবান্ধব সফটওয়্যারের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসস্থ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি)-এর বিজয় অডিটোরিয়ামে সামাজিক দূরত্ব মেনে ‘কম্প্রিহেনসিভ লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএলএমএস), রিমোট প্রক্টরিং এবং প্লেজিয়ারিজম চেকার’ শীর্ষক শিক্ষাবান্ধব সফটওয়্যারের উদ্বোধন করা হয়।

বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি।

জানা যায়, করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারির শুরু থেকে চলমান বিইউপির অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে যে কোনো প্রতিকূলতার মাঝেও সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য এই সফটওয়্যার প্রবর্তন করা হয়েছে। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষার্থীদের সার্বিক একাডেমিক অগ্রগতি বিষয়ক রিপোর্ট, প্রত্যেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, ভিডিও আপলোড, যে কোনো প্রকার পরীক্ষা গ্রহণ এবং তা রিমোট প্রক্টরিংর মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়াও থিসিস, টার্মপেপার এবং অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ যা ‘টার্ন-ইট ইন’ প্লেজিয়ারিজম চেকার অ্যাপের (Turnitin Plagiarism) মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখার মৌলিকত্ব ও স্বচ্ছতা যাচাই করা সম্ভব হবে। নতুন এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সারা বিশ্বে করোনা যখন সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে, শিক্ষাকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে, ঠিক সেখানেই বিইউপি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই বিশ্ব স্থবিরতার মাঝে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিইউপি শুরু থেকেই অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষাসহ অন্যান্য সকল প্রশাসনিক কার্যাবলী সচল রেখেছে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিইউপি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা সত্যিই অনন্য। 

মন্ত্রী আরো বলেন, উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন বেশি জোর দিতে হবে গবেষণার ক্ষেত্রে, তবেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিয়ে নয় বরং শিক্ষার গুণগত মান হবে একটা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণের মাপকাটি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হবে উচ্চশিক্ষা তথা জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার সূতিকাগার। 

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমি এটা জেনে অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত যে, বৈশ্বিক মহামারির প্রথম ঢেউয়ে যেখানে প্রায় সবকিছু বন্ধ, সেখানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি), সেই মার্চ মাস থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে শতভাগ ক্লাস পরিচালনা করেছে। বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে, সেখানেও বিইউপির কার্যক্রম না থেমে উপরন্তু আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সুবিধাসম্বলিত সফটওয়্যার চালু হয়েছে। যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করার নিমিত্তে বিইউপির আজকের এই সফটওয়্যার প্রবর্তন নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবরূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান বলেন, ‘বিইউপিকে আমরা একটি ওয়ার্ল্ড রাঙ্কেড ইউনিভার্সিটি হবার পথে অগ্রসর করার অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। একাডেমিক স্ট্রাটেজিক প্ল্যান-২০৩০ প্রণয়নের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পরও ডিজিটাল এলএমএস ব্যবহারের মাধ্যমে ব্লেনডেড শিক্ষা কার্যক্রম, বিশেষত প্রফেশনাল মাস্টার্স ও অন্যান্য স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কার্যক্রম চলমান রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমকে অনলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভার্চুয়াল ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নাল পাবলিকেশন, ইউনিভার্সিটি প্রেসের মাধ্যমে পাবলিকেশন এবং শিক্ষার সার্বিক গুণগত মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা এরই মধ্যেই শুরু হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, সিনেট সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্যবৃন্দ, বিইউপির বঙ্গবন্ধু চেয়ারের অধ্যাপক, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্যগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বিইউপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা