kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ধর্ষকের দাদার সঙ্গে শিশুর বিয়ে, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:৫০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধর্ষকের দাদার সঙ্গে শিশুর বিয়ে, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ধর্ষকের দাদার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের কিশোরীর বিয়ে দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তদন্ত শেষে ২৯ নভেম্বরের মধ্যেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং দেওয়ানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। ওই বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউপির বয়ড়াপাড়া গ্রামের একটি মহিলা মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই এলাকার সুরমান আলীর বখাটে ছেলে শাহিনের শারীরিক সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে কবিরাজি চিকিৎসায় মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানো হয়। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ১৬ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মাতব্বররা এ বিষয়ে সালিশ বৈঠক করেন। সালিশে ধর্ষক শাহিনকে ১০টি দোররা মেরে তার কর্মকাণ্ডের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় ৮৫ বছরের বৃদ্ধ দাদার ওপর। পরে দাদা মহির উদ্দিনের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের কিশোরীর বিয়ে দেন স্থানীয় মাতব্বরেরা। 

৮৫ বছরের বৃদ্ধ মহির উদ্দিন ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, চোখেও ঝাপসা দেখেন। তিনি সাত সন্তানের বাবা। তার দুই স্ত্রী অনেক আগে মারা গেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় চর আমখাওয়া ইউপি সদস্য নাদু মেম্বারসহ আরো কয়েকজন। চর আমখাওয়া ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন নাদুও বিষয়টি স্বীকার করে জানান, মুরব্বিদের নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশে অনৈতিক কাজ করায় শাহিনকে ১০টি দোররা মারা হয়। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ষকের দাদার সঙ্গে কিশোরীটির বিয়ে দেওয়া হয়। চর আমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান আকন্দও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা