kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গোল্ডেন মনিরের অর্থ সম্পদের খোঁজে দুদক

স্ত্রীসহ পরিবারের চারজনের ব্যাংক হিসাব তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০২:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোল্ডেন মনিরের অর্থ সম্পদের খোঁজে দুদক

কোটি টাকা মূল্যমানের দেশি-বিদেশি মুদ্রা, অস্ত্র, মদ ও ৬০০ ভরি সোনাসহ গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের অবৈধ অর্থ ও সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিকভাবে তাঁর নামে স্থাবর-অস্থাবর মিলে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে গোল্ডেন মনির, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল সোমবার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, গোল্ডেন মনিরের সম্পদের অনুসন্ধান চলছে কয়েক মাস ধরেই। শিগগিরই তাঁর কাছে সম্পদের বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান।

দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের জানান, মনিরের নামে নানা অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।

সূত্র জানায়, মনির অবৈধভাবে এক কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করে সেগুলো তাঁর মা ও স্ত্রীর নামে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ পেয়ে আট বছর আগে একটি মামলা করেছিল দুদক। কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তা বদলের পর মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

মনিরের নামে তিন কোটি ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। গত শনিবার র‌্যাবের অভিযানে জব্দ করা টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, গাড়িসহ ৪৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার টাকার সম্পদ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের বৈধ কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তারের নামে তিন কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার ২৯৩ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সন্ধান মিলেছে। একজন গৃহিণী হয়েও তিনি ২০১৬ সালের পর এসব সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন।

এদিকে এনবিআর সূত্র জানায়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবার মনির ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। মনির, তাঁর স্ত্রী রওশন আক্তার, ছেলে রাফি হোসেন ও মা আয়েশা বেগমের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। চিঠিতে এই চারজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বরসহ ঠিকানা ও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ওই নামগুলোতে কোনো আমানত বা ঋণ হিসাব, লকার, শেয়ার হিসাব, সঞ্চয়পত্র, ক্রেডিট কার্ডসহ কোনো ধরনের লেনদেনের তথ্য পেলে তা আগামী সাত দিনের মধ্যে এনবিআরকে পাঠাতে বলা হয়।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর ২৫ অ্যাকাউন্টে ৯৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা