kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

কোস্ট ট্রাস্টের গবেষণা

মজুরিবৈষম্যের শিকার উপকূলীয় এলাকার নারী মৎস্য শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ১৮:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মজুরিবৈষম্যের শিকার উপকূলীয় এলাকার নারী মৎস্য শ্রমিকরা

উপকূলীয় এলাকার নারী মৎস্য শ্রমিকরা মজুরিবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাঁরা পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় দৈনিক প্রায় ২৫ শতাংশ কম মজুরি পাচ্ছেন। বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, কক্সবাজার ও বাগেরহাটের এক হাজার ২০০ জেলে পরিবারের মধ্যে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ক্ষমতায়ন সূত্রের বাইরে উপকূলীয় জেলে পরিবারের বেশির ভাগ নারী : টেকসই মৎস্য খাতের জন্য নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ আবশ্যক’ শীর্ষক এক মতবিনিময়সভায় গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরা হয়।

কোস্ট ট্রাস্টের উপনির্বাহী পরিচালক সনত কুমার ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের যুগ্ম পরিচালক মো. মজিবুল হক মনির। স্বাগত বক্তৃতা করেন সংগঠনের পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামাল আকন্দ। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত, মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি শিল্পী দে, উন্নয়নকর্মী আমিনুর রসুল বাবলু, এ এস এম বদরুল আলম, এইচ এম সহিদুল আলম ফারুক, আসাদুজ্জামান শেখ, হাসান আল মামুন, তাসনুভা জামান, শামীম আরা প্রমুখ ।

সভায় উপকূলীয় এলাকার জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতায়নের অবস্থা তুলে ধরে বলা হয়, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নারী শ্রমিকদের সবাই সম্পদ। কেনাকাটায় জেলে পরিবারের ৩১ শতাংশ নারীরই কোনো মতামত গ্রহণ করা হয় না। পরিবারের সাধারণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৫৮ শতাংশ নারী সদস্যেরই কোনো মতামত নেওয়া হয় না। অন্যদিকে জেলে পরিবারের মাত্র দুই শতাংশ নারী সদস্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। সমাজের কোনো সালিসে বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় জেলে পরিবারের ৮২ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ করেননি। তা ছাড়া জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের ৬৫ শতাংশ সহিংসতার শিকার। যারা পুরুষ সদস্য মাছ ধরার কাজে বাড়ির বাইরে থাকলে আতংকে থাকেন।

সভায় মৎস্য খাতে নারীর অবদান চিহ্নিত করতে বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন, জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত, নারী জেলেদের মৎস্যজীবী হিসেবে সরকারি আইডি কার্ড প্রদান, মৎস্য খাত সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত, মৎস্য শ্রমিকদের জন্য শ্রম নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

সভায় বক্তারা নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। এতে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য কমবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা