kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

গ্রামীণফোনের ওয়েবিনারে বক্তারা

করোনা আমাদের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে

অনলাইন ডেস্ক   

৫ নভেম্বর, ২০২০ ১২:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা আমাদের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে

একটি দেশের সরকার মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারে, বাকি ৮০ শতাংশ করে বেসরকারি খাত। বেসরকারি খাত টিকিয়ে রাখা না গেলে কর্মসংস্থান হবে না, অর্থনীতি ধসে পড়বে। এ থেকে উত্তরণে সরকার ২১টি প্যাকেজের আওতায় এক লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে। এসব করা হয়েছে বেসরকারি খাত বাঁচিয়ে রাখতে।

গতকাল বুধবার গ্রামীণফোন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে গ্রামীণফোন আয়োজিত ‘তারুণ্যের সাথে, সম্ভাবনার পথে’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী ওয়েবিনার সিরিজের গতকাল চতুর্থ দিনের বিষয়বস্তু ছিল ‘অদম্য উদ্যোক্তা’।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘অদম্য স্পৃহা না থাকলে মানুষ উদ্যোক্তা হতে পারে না। আমরা যারা বহু বছর ধরে পোশাক রপ্তানি শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাদের অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে থাকতে হয়। কাজেই আমাদের অভ্যাস আছে। তবে করোনা মহামারি এমন এক বিপর্যয়, যা আগে কখনো হয়নি। আমরাও কখনো এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হইনি। এ চরম বিপর্যয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যে পরিমাণ সহযোগিতা আমরা পেয়েছি, তাতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।’

এটুআইয়ের যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘করোনা আমাদের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। করোনার শুরুতে লকডাউন দিলে তাদের ছুটি দিতে হবে, মানুষকে মানবিক সহায়তা দিতে হবে। চিকিৎসা দিতে হবে, তরুণদের কাজে লাগাতে হবে। ছোট ছোট কম্পানি ডুবে যাচ্ছে। বড় বড় কম্পানিও ক্ষতির সম্মুখীন। তাদেরও টিকিয়ে রাখতে হবে। একটি দেশের সরকার মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারে। বাকি ৮০ শতাংশ করে বেসরকারি খাত। বেসরকারি খাত টিকিয়ে রাখা না গেলে কর্মসংস্থান হবে না। অর্থনীতি ধসে পড়বে। করোনাকালীন সময়ে পরিবহন, পর্যটন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ১১টি সেক্টরে প্রায় তিন কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ থেকে উত্তরণে সরকার ২১টি প্যাকেজের আওতায় এক লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে। এসব করা হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে।’

সেবা প্ল্যাটফর্ম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান ইমতিয়াজ হালিম বলেন, “করোনার শুরুতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমরা মানুষের জন্য কাজ করি, তাদের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। তাই আমরা প্রথমে আমাদের যত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছেন, যেসব উদ্যোক্তা আমাদের ওপর নির্ভর করছিলেন, তাঁদের আমরা বলেছি—জুন পর্যন্ত তাঁদের পরিবারকে সাপোর্ট দিতে হলে যা কিছু করা লাগে আমাদের পক্ষ থেকে করব। প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। প্রথম দুই মাস সব সার্ভিস বন্ধ করে রেখেছিলাম। কারণ আমাদের সব কাজই হলো বাসায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া। ওই সময়টায় আমরা চারজন মিলে ‘মিশনস বাংলাদেশ’ নামের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কারণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যে পরিমাণ সাপোর্ট দরকার, তা একজনের পক্ষে সম্ভব না। পরে এখানে আরো এক শর ওপর করপোরেটকে যুক্ত করি। করোনাকালে আমরা প্রায় ১২ হাজার পরিবারকে সাপোর্ট দিয়েছি।”

সিমেড হেলথ সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. খন্দকার এ মামুন বলেন, ‘আমরা করপোরেট অফিস ও ফ্যাক্টরিতে রেগুলার ডিজিটাল প্রাইমারি হেলথ কেয়ার দিচ্ছিলাম। রুরালে ডোর স্টেপে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেবা দিচ্ছিলাম। করোনার আগ পর্যন্ত প্রায় ৫১টি ইউনিয়নে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডোর স্টেপে প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে প্রতি মাসে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এর বাইরে ফ্যাক্টরিতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছিল। করোনার কারণে দৃশ্যাবলি সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যায়। গত তিন বছরে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমাদের যে অভিজ্ঞতা ছিল, সে অভিজ্ঞতা তখন কাজে লাগিয়েছি।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্রামীণফোনের সাম্মু ফারহানা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা