kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

হালদায় মা মাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হালদায় মা মাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

হালদায় মা মাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শুক্রবার দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী পরিদর্শনে এসে হালদাপারের সাত্তারঘাটে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব মো. তৌফিকুল আরিফ, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান আহমেদ, চট্টগ্রামের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী, রাউজান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দর চৌধুরী, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমীন, স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও মৎস্যজীবীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আরো বলেন, মৎস্য উৎপাদনের অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখার জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। কারণ এই খাত আমাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল করার সবচেয়ে বড় খাত হবে।

দেশের মৎস্য উৎপাদনে হালদার ভূমিকা বিশাল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্মরণাতীতকালের সর্বোচ্চ মাছের পোনা এ বছর হালদায় উৎপন্ন হয়েছে। মাছের পোনা উৎপাদনে হালদায় অনেক প্রতিকূলতা আমরা অতিক্রম করেছি। এখানে শিল্প-কলকারখানার বর্জ্য যাতে নির্গত না হয়, মৎস্য আহরণ বন্ধকালে অসাধু উপায়ে যাতে কেউ মা মাছ ধরতে না পারে এবং কোনোভাবেই হালদায় মাছের প্রজনন ক্ষেত্রে যাতে বিঘ্ন না হয়, নির্বিঘ্নে যাতে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। এ কার্যক্রম ঠিকভাবে চলছে কি না সেটা সরেজমিনে দেখতে আমরা মাঠে নেমেছি। এখানকার জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আমাদের সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থা সবাই মিলে কাজ করছে। এ জন্য হালদার অতীত ঐতিহ্য ইতিমধ্যে ফিরে এসেছে। আরো ভালো অবস্থানে আমরা যাব।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকাকালে সারা দেশের মৎস্যজীবীদের যাতে খাবারের কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য তাদেরকে প্রণোদনা হিসেবে সরকার ভিজিএফ দিচ্ছে। হালদা এলাকায় কেউ বাদ পড়ে থাকলে অবশ্যই তাদের তালিকা হালনাগাদ করে সে সুযোগ দেওয়া হবে। এ বছর হালদায় যে পরিমাণ মাছের পোনা পাওয়া গেছে এটা একটা বিশাল সাফল্য। এ সাফল্যের অনেকাংশে অংশীদার এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষরা।

মন্ত্রী আরো বলেন, কভিড-১৯ এর ভয়াবহতা থেকে গোটা দেশকে কিভাবে বাঁচানো যায় শেখ হাসিনা সে জন্য পরিশ্রম করছেন। এ সময় একজন মানুষও না খেয়ে মারা যাননি।

মৎস্য সম্পদকে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে। সারা পৃথিবীতে যেভাবে অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে, এই স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য মৎস্য সম্পদই হবে আমাদের মূল সম্পদ। এ জন্য মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য আহরণে বিরত থাকা সকল মৎস্যজীবীদের আমরা ক্রমান্বয়ে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসব। যাতে একজন মৎস্যজীবীর খাদ্যের অভাবে কষ্ট না পায়। এটা চলমান প্রক্রিয়া।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমি অডিটরিয়ামে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন মন্ত্রী। এদিন মেরিন ফিশারিজ একাডেমিতে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা