kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

আর বাকি ৪ দিন

বাইডেনে বেশি ঝোঁক বাংলাদেশিদের

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০৪:২৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাইডেনে বেশি ঝোঁক বাংলাদেশিদের

ছবি: ইন্টারনেট

ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এমনিতেই একচেটিয়া সমর্থন ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের। তার ওপর এবার দলটির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন, কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বৈধতা দেবেন তিনি। অভিবাসনে নমনীয় নীতির কারণে এবারও বেশির ভাগ প্রবাসী বাংলাদেশির সমর্থন যাবে ডেমোক্রেটিক দলের এই প্রার্থীর পক্ষে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বাইডেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। অনেক দিন ধরে সিনেটর ছিলেন; ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে।

যদিও ইদানীং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের বেশির ভাগের সমর্থন ডেমোক্রেটিক দলের প্রতি প্রায় একচেটিয়া ছিল। পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করলেও আগামী ৩ নভেম্বর হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের প্রতিই আস্থা বেশির ভাগ বাংলাদেশির।

নিউ ইয়র্কের জনপ্রিয় টেলিভিশন টিবিএন২৪-এর একটি জরিপও সেটা নিশ্চিত করছে। জরিপে অংশ নেওয়া দর্শকের ৫৯ শতাংশই জো বাইডেনকে সমর্থন করেছে। বাইডেনের চেয়ে অনেকটা কম হলেও ট্রাম্পের অবস্থান বাংলাদেশিদের মধ্যে ভালো হয়েছে, যা ৪১ শতাংশ। দুই হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এই জরিপে অংশ নেন। 

আমেরিকার রাজনীতি, অর্থনীতি, ট্যাক্স ও অভিবাসন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বুঝতে প্রবাসীদের বড় ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে টিবিএন২৪ টেলিভিশনের অনুষ্ঠানগুলো। গত তিন মাস ধরে ‘ইলেকশন টোয়েন্ট টোয়েন্টি’ নামে সরাসরি একটি অনুষ্ঠান হচ্ছে এই টেলিভিশনে। গোটা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্লেষকরা অংশ নিচ্ছেন এই অনুষ্ঠানে। সেখান থেকেও পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, প্রবাসীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ অনেক। বরাবরের মতো এবারও ডেমোক্রেটিক দলটির প্রতি তাঁদের আস্থা বেশি। ফলে এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান তাঁরা।

টিবিএন২৪ টেলিভিশনের সিইও আহমদুল বারভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীরা নির্বাচন নিয়ে ভাবেন, রাজনীতি সচেতন, তাঁরা তাঁদের অধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে জানেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে। এবার দেখছি বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী। তাঁরা জানেন কী করতে হবে।’

আহমদুল বারভূঁইয়া আরো বলেন, এখনো মনে হচ্ছে ডেমোক্রেটিক দলেরই বিরাটসংখ্যক সমর্থক প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছে। তবে এটাও ঠিক, রিপাবলিকান সমর্থকও বাড়ছে।

যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, জো বাইডেনের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমর্থন হয়তো আরো বেশি হবে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিজ্ঞানের প্রতি অবজ্ঞার প্রসঙ্গটি টেনে সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশনের অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা নিয়ে ব্যর্থ ট্রাম্প। অভিবাসীদের ভালো চোখে দেখেন না। ফলে বাংলাদেশিদের বেশির ভাগ সমর্থন বাইডেনই পাবেন।

২০১৯ সালে নিউ ইয়র্ক পাবলিক অ্যাডভোকেট প্রার্থী হেলাল এ শেখ দাবি করেন, এবার নির্বাচনে জো বাইডেনের কোনো বিকল্প নেই। ট্রাম্পে চার বছর সুযোগ দিয়ে দেখা হয়েছে। তিনি ব্যর্থ। ফলে পরিবর্তন দরকার।

রাজনীতি বিশ্লেষক ও স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের সিইও মোহাম্মদ মালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখুন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্যই অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ভালো ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু সেটা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাজের ধারাবাহিকতায় এসেছে। ওবামা যাওয়ার সময় একটি শক্তিশালী অর্থনীতি রেখে গেছেন। সেই সুবিধা পেয়েছেন ট্রাম্প।’

মোহাম্মদ মালেক আরো বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক আচরণকে খুবই অপছন্দ করি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনীতিতে এই বিষয়টি প্রকট। তিনি শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদকে প্রকাশ্যে সমর্থন ও প্রশ্রয় দেন, যা জো বাইডেনের মধ্যে নেই। ফলে প্রার্থী হিসেবে আমি তাঁকেই এগিয়ে রাখছি।’

যদিও নিউ ইয়র্কে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান এলায়েন্সের চেয়ারম্যান নাসির আলী খান পল বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি একজন অভিবাসী হিসেবে নয়; আমেরিকান হিসেবে পুরো বিষয়টিকে দেখতে চাই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রচণ্ড দেশপ্রেমিক একজন মানুষ। দেশের স্বার্থকে তিনি সবার ওপরে স্থান দিয়েছেন। আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মকে যে আমেরিকায় রেখে যাব, সেটিকে বাসযোগ্য করে তুলছেন তিনি। এ কারণে তাঁকে আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রয়োজন।’

সংগঠনটির কো-চেয়ার বিদ্যুৎ সরকার বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়াননি। বরং যুদ্ধ বন্ধ করেছেন।’ এই বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমনকি অনেকেই বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যাবে। কই তেমনটি তো হয়নি। একজন প্রথাগত রাজনীতিবিদ না হয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক সাফল্যে ওই অঞ্চলে শান্তি বিরাজ করছে।’

বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান অ্যালায়েন্সের কো-চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ সরকার দাবি করেছেন, ‘প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন; তা বাস্তবায়ন করেছেন। ট্রাম্পের আমলে আমেরিকা ভালো আছে। দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে চাকরির বাজার ফিরেছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে গুরুত্ব দেননি, এ কথা মানতে রাজি নন বিদ্যুৎ সরকার, বরং ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত স্টেটগুলোর গভর্নর ও মেয়রদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় সম্ভাব্য সব কিছু করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।’

নিবন্ধিত রিপাবলিকান নাসির আলী খান পল এ প্রসঙ্গে দাবি করেছেন, ‘বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে বড় সংখ্যক মানুষের মাস্ক ব্যবহার না করা এবং লুটপাটের ঘটনায় দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। এতে প্রেসিডেন্টের কিছুই করার ছিল না।’

নিউ জার্সির পেইন্সবোরো টাইনশিপের কাউন্সিলম্যান ও বাংলাদেশের একুশে পদক বিজয়ী লেখক ড. নূরান নবী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় বাইডেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল। সেই সঙ্গে তিনি রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, অভিবাসীবান্ধব। রাজনৈতিক আদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি, মানুষ ও আইনের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার কারণেও তিনি অন্য রকম।’ তিনি বলেন, ‘ভোটের মাঠেও বাইডেন এগিয়ে আছেন বলে মনে করি। সুইং স্টেটগুলোতেও এগিয়ে তিনি। ২০১৬ সালের জরিপের সঙ্গে এবার তুলনা করলে চলবে না। বিপুল ব্যবধানে এবার জয়লাভ করবেন জো বাইডেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা