kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

নিহত গৃহকর্তার ভাই-বোন, ভাগ্নে ও মা আটক

এক পরিবারের তিনজনকে হত্যার পর মাটিচাপা

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি    

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০২:০৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এক পরিবারের তিনজনকে হত্যার পর মাটিচাপা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট তাতারকান্দা গ্রামে এক পরিবারের গৃহকর্তা, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাদের নৃশংসভাবে হত্যার পর বাড়ির পেছনে একটি গর্ত খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর গ্রামবাসীর সহায়তায় তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলো- জামষাইট তাতারকান্দা গ্রামের আসাদ মিয়া (৫৫), তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪৫) ও ছেলে লিয়ন মিয়া (৮)। পুলিশ ও গ্রামবাসীর ধারণা, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিবারের সদস্যরা তিনজনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে থাকতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ গতকাল রাতেই নিহত আসাদ মিয়ার ভাই দীন ইসলাম, ভাগ্নে আল-আমিন, বোন নাজমা বেগম ও মা জুমেলা খানকে আটক করেছে।

গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, গত বুধবার দিবাগত রাতে প্রতিদিনের মতো আসাদ মিয়া স্ত্রী পারভীন ও ছোট ছেলে লিয়নকে নিয়ে বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই দিন আসাদ-পারভীন দম্পতির বড় ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২৫) ঢাকায় ছিলেন। আর মেজো ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (১৩) ছিল নানার বাড়ি। গতকাল সকালে মোফাজ্জল নানার বাড়ি থেকে বাড়ি এসে মা-বাবা ও ভাইকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে নিজেই পুলিশের কাছে যায়।

পুলিশ জানায়, মোফাজ্জল অভিযোগ করে, জমি নিয়ে চাচাদের সঙ্গে তার বাবার বিরোধ চলছে। এই বিরোধের কারণে চাচারা তাঁকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করেছেন। এর পরই পুলিশ তৎপর হয়।

এদিকে গতকাল রাতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গ্রামবাসী আসাদের বসতবাড়ির পেছনের জমিতে মাটি খোঁড়া ও একটি নতুন গর্ত দেখতে পায়। গর্তের ফাঁক গলিয়ে একটি হাতও সবার চোখে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে কটিয়াদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গর্তের মাটি সরালে তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার তদারক করেন।

একাধিক গ্রামবাসী কালের কণ্ঠকে জানান, জমি নিয়ে আসাদ মিয়ার সঙ্গে তাঁর ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের চরম বিরোধ ছিল। এর জের ধরে পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। পুলিশ সুপার বলেন, নিহত আসাদ মিয়ার ভাইসহ পরিবারের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যারহস্য বের হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা