kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে

'সন্ত্রাসী ব্যক্তির নামে গঠিত বাহিনীকে বিশেষ আইন পাসের মাধ্যমে নির্মূল করা সময়ের দাবি'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে

সন্ত্রাসী ব্যক্তির নামে গঠিত বাহিনীকে বিশেষ অর্ডিন্যান্স/আইন পাসের মাধ্যমে নির্মূলের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশেষ আদালতে অতি অল্প সময়ে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। ব্যক্তি নামে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন, পরিচালনা ও অপরাধ সংঘটন রাষ্ট্র ও নিয়মতান্ত্রিক সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল। তাই এলাকা ভিত্তিক গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনীকে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে নির্মূল করা এখন সময়ের দাবি। এমন কথাই বলা হয়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনায় নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার এসব প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আদালত এ বিষয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। নোয়াখালীর অতিরিক্তি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রতিবেদন আদালত পাঠ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এদের নির্মূলে গ্রাম পুলিশ ও বিট পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার এবং জনপ্রতিনিধিগণের সমন্বিত উদ্যোগ ও রাষ্ট্রের নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক নৃশংস ও অমানবিক। নারীত্বের প্রতি চূড়ান্ত অবমাননাকর, যা বাংলাদেশের জনগণের মানবিক চেতনাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত। যাতে দেশে এ ধরনের ঘটনা সংঘটনে কেউ কখনো সাহস না করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাক্ষী প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয় না। ফলে অনেক গুরুতর অপরাধী আটক হয়েও জামিনে মুক্ত হয়ে ক্রমিক সন্ত্রাসে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যেমন বেগমগঞ্জের কথিত সুমন ও সম্রাট বাহিনী।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নারীর সম্ভ্রমহানির বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাঠ্যসূচিতে ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেগমগঞ্জ সার্কেলের এএসপি শাহজাহান শেখ, বেগমগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ চৌধুরী, বেগমগঞ্জ থানার দুই এসআই, ওই এলাকার ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ ও এলাকার চৌকিদার ঘটনা সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অগ্রহণযোগ্য ও যুক্তিসংগত নয়। তাদের বিষয়ে আদালত কর্তৃক যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া যায়।

ভিকটিমের স্বামী সাইফুল ইসলাম সুমন সম্পর্কে বলা হয়, ঘটনা সম্পর্কে সব অবগত হওয়া সত্ত্বেও বিচার দাবি করে কোনো পদক্ষেপও নেয়নি। তার অবস্থান সন্দেহজনক। তাই তাকে আইনের আওতায় এনে ঘটনা সম্পর্কে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা যায়।

ভিকটিমের ভাশুর মিনা সন্ত্রাসীদের একজন সহচর বলে জানা যায়। ঘটনার দিনে বিষয়টি আকস্মিক নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ নারকীয় ঘটনা সংগঠন করা হয়েছে। যাতে ভিকটিমের স্বামী ঘরে ফিরে যেতে না পারে। ভিকটিমকে মারধর করা, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা এবং যৌন নিপীড়ন করা ছিলো সন্ত্রাসীদের এক ধরণের বিকৃত উল্লাস ও শক্তি প্রদর্শন।

এর আগে হাইকোর্ট গত ৫ অক্টোবর এক আদেশে ওই ঘটনায় কার অবহেলা তা অনুসন্ধানে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির অপর দুই সদস্য ছিলেন নোয়াখালী জেলা সমাজ সেবা অফিসার এবং চৌমুহনী সরকারী এস এ কলেজের অধ্যক্ষ। এ কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এ নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। গত ২ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনার ভিডিও ৪ অক্টোবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একজন নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর করছে। তাদের একজন পা দিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরেছে। বার বার আকুতি জানানোর পরও তার ওপর নির্যাতন থামেনি। এরপর ওই নারীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় স্থানীয় পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় নির্যাতিতা নারী একটি মামলা করেন। নারী নির্যাতনের ওই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন গত ৫ অক্টোবর আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও আব্দুল্লাহ আল মামুন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা