kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

ডিআরইউর রজতজয়ন্তী শোভাযাত্রা উদ্বোধনকালে ফখরুল

গণমাধ্যম যত স্বাধীন ও শক্তিশালী, গণতন্ত্র তত শক্তিশালী

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ১২:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণমাধ্যম যত স্বাধীন ও শক্তিশালী, গণতন্ত্র তত শক্তিশালী

ছবি: সংগৃহীত।

'যে দেশের গণমাধ্যম যত স্বাধীন ও শক্তিশালী, সেই দেশের গণতন্ত্র তত বেশি শক্তিশালী। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের গণতন্ত্র ও সামগ্রীক সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম গণমাধ্যম।' 

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বরে সংগঠনটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করার আগে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সারা বিশ্বে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর একটা চাপ সৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমরা লক্ষ করছি, বাংলাদেশে সেই চাপ অনেক বেশি। আমরা দেখেছি, শুধু রাজনৈতিক কারণে অনেক সংবাদকর্মীকে নিগৃহীত হতে হয়েছে, প্রাণ দিতে হয়েছে। তাঁদেরকে অনেক সময় কারাগারে যেতে হয়েছে। সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন প্রায় অনুপস্থিত। এখানে মানুষের স্বাধীনতা-সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এসেছি।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি বাংলাদেশের পেক্ষাপটে বর্তমানে একটি ব্যতিক্রমী সংগঠন। এটা সংবাদকর্মীদের নিজস্ব সংগঠন এবং এখানে এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনো রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে নিজেদেরকে ডুবিয়ে দেননি। তাঁরা গত ২৫ বছর ধরে পেশাদার সংগঠন হিসেবে নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে পেরেছেন। এ জন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে বিভাজনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যার কুফল সর্বক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি। যার ফলে সমাজ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, মানুষ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য সুখকর বিষয় নয়। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আনন্দময় নয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি যেভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা আমাদের জন্য আশার একটা আলো দেখায়।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, আমি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যখন একদিকে কভিড-১৯ সারা বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলেছে। মানবসভ্যতাকে বাধা প্রদান করছে। সেই সময়ে তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে কাজ করছেন। এ সময় অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন, আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মাগফিরাত কামনা করছি। সেই সঙ্গে যারা বিপদকে সামনে নিয়ে লড়াই করছেন, তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি এই প্রত্যাশায় যে আপনাদের যে চরিত্র আপনারা রেখেছেন, সেই চরিত্র আপনারা অক্ষুণ্ণ রাখবেন এবং সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্র ও জনগণের সেবা করার জন্য আপনারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। 

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আইন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে আইনগুলো করা হয়, এগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য কখনো উপযোগী নয়। দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেছি, বাংলাদেশে গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতকে সহ্য করার যে সহনশীলতা, সেটা ধীরে ধীরে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে লজ্জার সঙ্গে একটা খবর লক্ষ করলাম, যেটা পত্রিকায় এসেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ১০ জন সদস্য তাঁদের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছেন যে বাংলাদেশের একটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৪০০ মানুষ বিনা বিচারে নিহত হয়েছে। তা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটা স্যাংশন দেওয়ার অনুরোধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে। আমাদের দুঃখ হয়, আজকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলো বিদেশের কাছে যাচ্ছে, বিশ্বসভার কাছে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য কখনোই সুখকর বিষয় নয়।

বক্তব্য শেষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরে রজত জয়ন্তী উপলক্ষে শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ইলিয়াস হোসেন, ডিআরইউর সিনিয়র সদস্য শাহনেওয়াজ দুলাল, ডিআরইউর বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাফর ইকবাল প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা