kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

সড়ক ঠিক রাখার ব্যয় দেবে যাত্রীরা

খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত ৩ নভেম্বর বৈঠক

আরিফুর রহমান   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০২:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়ক ঠিক রাখার ব্যয় দেবে যাত্রীরা

সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে সেতু থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে আগে থেকেই। পাশাপাশি তিনটি সড়ক থেকেও টোল আদায় করা হচ্ছে। এবার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের টাকা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা-২০২০-এর খসড়ায় এমন প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, সড়ক নির্মাণের পর সেটি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই করার উদ্দেশ্যেই এমন উদ্যোগ। খসড়া নীতিমালা নিয়ে আগামী ৩ নভেম্বর সচিবালয়ে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়েছে।

খসড়া নীতিমালার ১০ নম্বর ধারায় বলা আছে, সরকার পর্যায়ক্রমে সড়ক ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় আহরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সড়ক ব্যবহারের অনুপাতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নির্বাহের জন্য ‘রোড মেইনটেন্যান্স ফান্ড’-এর মাধ্যমে অর্থ সংস্থান করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থ জোগানে ২০১৩ সালে একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়। তবে সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। দেশে নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণে অর্থ ব্যয়ে মন্ত্রণালয়গুলো যতটা আগ্রহী, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে ততটা আগ্রহ দেখা যায় না। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে টাকা চাওয়া হয়, তা পাওয়া যায় না। যেমন—২০১৮-১৯ অর্থবছরে সড়ক সংস্কার ও অবকাঠামো সংরক্ষণে ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও পাওয়া গেছে দুই হাজার ২২৮ কোটি টাকা। একটি সড়ক নির্মাণের পর বছর না ঘুরতেই সেটি বেহাল হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় সরকার নীতিমালা করতে যাচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের টাকা দিয়েই সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে টাকা খরচ হবে, তা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কোন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করবে, নির্মাণ-পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে আর্থিক সমস্যা দূর করতে সরকার প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে বিকল্প উপায়ে অর্থায়নের চেষ্টা করবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকার একটি বার্ষিক বরাদ্দ কর্মসূচি প্রণয়ন করবে।

এ বিষয়ে এ কে আজাদ বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এটা তাদের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক হবে। তবে ঠিকাদারকে কত সময়ের জন্য সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা প্রকল্প কাজের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে ঠিক করা হবে।

খসড়া নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, নিয়মিত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ে যন্ত্রপাতি লিজ ও ভাড়া দিতে পারবে সরকার।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে এখন ২২ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক রয়েছে। এ সড়ক মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যই নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। সব পক্ষের মতামত নিয়ে দ্রুতই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দীপঙ্কর মণ্ডল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা