kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

একনেকে প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্পে মামলা হলে দ্রুত নিষ্পত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০২:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উন্নয়ন প্রকল্পে মামলা হলে দ্রুত নিষ্পত্তি

সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে শুরুতেই মামলাজনিত কারণে হোঁচট খেতে হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। জমিসংক্রান্ত মামলার কারণে প্রকল্পের গতিও কমে যায়। বছরের পর বছর লেগে যায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যদি মামলা হয়, যে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প তাদের যত দ্রুত সম্ভব মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মামলার কারণে কোনোভাবেই প্রকল্প বাস্তবায়ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে তিনি তাগিদ দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রথমেই মামলার মুখে পড়তে হয়। আদালতে চলমান মামলার কারণে প্রকল্পের কাজে দেরি হয়ে যায়। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবনে একনেক বৈঠকে অংশ শেষে রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এসে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় মন্ত্রীর পরিবর্তে সচিব সংবাদ সম্মেলনে একনেকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে পরিকল্পনাসচিব বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে সামর্থ্য হতে হবে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা দিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা ঠিক নয়। সিটি করপোরেশনগুলো যদি কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে, নিজেদের টাকায় যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না।

পরিকল্পনাসচিব জানান, রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে যাতে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, রাস্তা তৈরির সময় পর্যাপ্ত ব্রিজ, কালভার্ট রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে হাওর, বাঁওড় অঞ্চলে রাস্তা এলিভেটেড করতে হবে। যাতে করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট না হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কর্মকর্তাদের বদলিজনিত কারণে যাতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত না হয়।

গতকালের একনেক সভায় চলমান এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়। পাঁচ বছর আগে যখন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তখন এর ব্যয় ছিল ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। গতকাল একনেকে তা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা করা হয়। আর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় আরো তিন বছর। গতকালের একনেক সভায় এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন নির্মাণসহ মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে পাঁচ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে খরচ হবে দুই হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। বাকি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণে খরচ হবে। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে ফেনীর সোনাগাজী হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা