kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনার বিরুদ্ধে ৩২৫ শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০২:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার বিরুদ্ধে ৩২৫ শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী

‘আর্ট এগেইনস্ট করোনা’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে দর্শকরা। গতকাল শিল্পকলা একাডেমি থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ সংকটে প্রায় বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। মুক্ত নয় বাংলাদেশও। এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বজুড়ে সবাই প্রাণপণ যুদ্ধ করে যাচ্ছে নিজ নিজ অবস্থান থেকে। সেই যুদ্ধে শরিক হলেন বাংলাদেশের চিত্রশিল্পীরা। তাঁরা আঁকলেন করোনার বিরুদ্ধে চিত্রকর্ম। আর্ট ক্যাম্পে আঁকা ৩২৫ জন শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ ও ২ নম্বর গ্যালারিতে গতকাল মঙ্গলবার শুরু হয়েছে প্রদর্শনী।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিকেলে মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে. আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী জামাল আহমেদ। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব মো. নওসাদ হোসেন।

প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগতরা প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে গ্যালারির পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমির ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ভার্চুয়াল ডিসপ্লের মাধ্যমেও এসব ছবি প্রচার করা হবে।

‘আর্ট অ্যাগেইনস্ট করোনা’ শীর্ষক চিত্রকর্মশালার আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। এই আয়োজনে যোগ দেন তিন

শতাধিক শিল্পী। জাতীয় চিত্রশালা ভবনের বিভিন্ন গ্যালারি, প্লাজা ও স্টুডিওতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পীদের ছবি আঁকার ব্যবস্থা করা হয়। ৭ জুলাই শুরু হয়ে ২০ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক শিল্পী ছবি আঁকতে আসেন। প্রতিটি স্টুডিওতে স্বল্পসংখ্যক শিল্পীকে নিয়ে এই আয়োজন ছিল একটি মডেল আর্ট ক্যাম্প। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের শতাধিক শিল্পীকে তাঁদের বাসায় ক্যানভাস, রংসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হয়।

করোনার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে শিল্পীরা তাঁদের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন নিজেদের আশা, স্বপ্ন আর আলোর জন্য প্রতীক্ষা। তাঁদের সৃষ্টিতে রয়েছে দুঃসময়ের প্রহর অতিক্রম করে সুস্থ-সুন্দর ভোরের প্রত্যাশা।

উদ্বোধনী আলোচনা শেষে কবি পার্থ মুখার্জীর কবিতা ‘শঙ্খচিল’ ও কবি মীনার বসুনিয়ার ‘তিনি তোমাদের একার ঈশ্বর নন’ কবিতার অংশবিশেষ আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ। কবি রীতা নাহারের কবিতা ‘পৃথিবীর অসুখে তুমি যে মানবতার ঢাল’ আবৃত্তি করেন মীর বরকত। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। ফিফা চাকমার নৃত্য পরিচালনায় সম্প্রীতির নৃত্য পরিবেশন করেন বিভিন্ন ক্ষুদ্রজাতির শিল্পীরা।

জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনের সামনে গতকাল বিকেলে শিল্পী অসীম হালদার সাগরের পরিচালনায় ‘ব্রিদিং উইথ ল্যাঙ্গুয়েজ-২’, ১ নম্বর গ্যালারির সামনে শিল্পী আবু নাসের রবির পরিচালনায় ‘যদিও সুন্দর ঘিরে থাকে আমাদের তবুও তাকে খুঁজতে আমরা বাগানে যাই’ এবং ভাস্কর্য গ্যালারির সামনে শিল্পী সরকার নাসরিন টুনটুনের পরিচালনায় ‘আশার আলোর উপস্থিতি’ পারফরম্যান্স আর্ট পরিবেশিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা