kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

হাজি সেলিমপুত্রের জেল

► নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর
► মদ্যপান, ওয়াকিটকি রাখায় দণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০২:০৯ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



হাজি সেলিমপুত্রের জেল

হাজি সেলিম এমপির বাড়ি থেকে গতকাল তাঁর ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর কলাবাগান ট্রাফিক সিগন্যালের অদূরে একটি মোটরসাইকেলকে জিপ গাড়ির ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটির সূত্রপাত রবিবার সন্ধ্যার পরে। একপর্যায়ে ‘সংসদ সদস্য স্টিকার’ লাগানো গাড়িটি থেকে নেমে আরোহীরা মোটরসাইকেল আরোহী নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। এই অভিযোগে গাড়ির আরোহী ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজি মো. সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম, গাড়িচালক মিজানুর রহমান ও দেহরক্ষী জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। গতকাল সোমবার পুরান ঢাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফানকে মদ্যপানের জন্য এক বছর এবং অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার দায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দেহরক্ষী জাহিদকে ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পর তাঁদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইরফান ও তাঁর সহযোগীরা গাড়ি থেকে নেমে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধর করার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ রেঞ্জ রোভার ব্র্যান্ডের গাড়িটি জব্দ করে চালক মিজানুর রহমানকে আটক করলে রাতভর চলে সমঝোতার চেষ্টা। রাতে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পর গতকাল সকালে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ বাদী হয়ে ইরফান সেলিমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। গতকাল দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত টানা ১০ ঘন্টা পুরান ঢাকায় হাজি সেলিমের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র, মদ, ইয়াবা, বিয়ার, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ইরফান ও জাহিদকে গ্রেপ্তারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দেন। রাতে বাড়ির পাশে আরেকটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ইরফান সেলিমের একটি টর্চার সেলের সন্ধান পান র‌্যাব কর্মকর্তারা। সেখান থেকে হাড়, ওয়াকিটকি, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্র, ইয়াবাসহ অন্য আলামত উদ্ধারের ঘটনায় ইরফানের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সিসি ক্যামেরায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ ও টর্চার সেল চালানোসহ ইরফানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখছে র‌্যাব।

এদিকে দিনভর হামলার অভিযোগ এবং অভিযানকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও হাজি সেলিমকে গতকাল প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গলার সমস্যার কারণে হাজি সেলিম এখন ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না।

অন্যদিকে গতকাল দুপুরে হাজি সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমানের আদালত এক দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

গতকাল দুপুরে ধানমণ্ডির নিজ বাসভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘটনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে জনপ্রতিনিধি হোক বা যে-ই হোক। আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার বিশ্লেষণসহ তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ঘটনা : রবিবার সন্ধ্যার পর কলাবাগান সিগন্যালে নৌবাহিনীর কর্মকর্তার ওপর হামলার সময় এবং এর পরে অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হয়। ‘সংসদ সদস্য স্টিকার’ লাগানো দামি জিপ গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা দেখে কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি রাতেই সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরে আহত ব্যক্তিটি নিজেকে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, বই কিনে স্ত্রীসহ মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। ওই গাড়িটি তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। তিনি তখনই মোটরসাইকেল থামান এবং নিজের পরিচয় দেন। কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে তাঁকে মারধর শুরু করেন তাঁরা। মারধরের কারণে তাঁর (ওয়াসিফ) দাঁত ভেঙে গেছে। তাঁর স্ত্রীর গায়েও হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনাস্থলে লোকজন জমে গেলে সংসদ সদস্যের গাড়ি ফেলে মারধরকারীরা সরে যান। পরে পুলিশ গাড়ি ও মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে যায়। ভিডিওতে গাড়ির নম্বর দেখা যায় ঢাকা মেট্রো : ঘ ১১-৫৭৩৬। রাতে ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ‘দুই পক্ষই থানায় এসেছে। অভিযোগ পেলে বা আলাপ-আলোচনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’ পরে ওসি জানান, রাতে একটি জিডি করেছেন লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ। তবে তাঁরা গাড়িসহ চালককে আটক রেখেছেন।

রাতভর সমঝোতার চেষ্টা : পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার কবল থেকে বাঁচতে গাড়িচালক ছাড়া সবাই ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। গাড়িতে মোট সাতজন ছিলেন। পরে তাঁদের কয়েকজন থানায়ও আসেন। ওই সময় লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। এ সময় তাঁর কয়েকজন সহকর্মী থানায় যান। তাঁরা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে বলেন। সেখানে একপর্যায়ে হাজি সেলিমের ছেলে ইরফানসহ কয়েকজন হাজির হন। প্রথমে উভয় পক্ষে কথা-কাটাকাটি হলেও একপর্যায় হাজি সেলিমের পক্ষের লোকজন সমঝোতায় জোর দেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও থানায় যান। রাতভর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে তদবির করেন ইরফান ও তাঁর সহযোগীরা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভোরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ।

মামলায় অভিযোগ : পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ইরফান সেলিম, তাঁর দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ, তাঁদের মালিকানাধীন মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন ওয়াসিফ। অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুই-তিনজনকেও আসামি করা হয়। মামলায় মোট পাঁচটি ফৌজদারি অপরাধের ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধগুলো হলো দণ্ডবিধি ১৪৩ অনুযায়ী বেআইনি সমাবেশের সদস্য হয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলকভাবে বলপ্রয়োগ করা, ৩৪১ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, ৩৩২ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধাদানের উদ্দেশ্যে আহত করা, ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার ওপর বলপ্রয়োগ করা এবং ৫০৬ ধারায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া।

ওয়াসিফ অভিযোগ করেন, রবিবার নীলক্ষেত থেকে বই কিনে স্ত্রীসহ মোটরসাইকেলে তিনি ঢাকা সেনানিবাসে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তাঁর মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। এ সময় গাড়ি থেকে একজন নেমে আসেন এবং তিনি তাঁর পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে হত্যার হুমকি দিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যান। প্রায় ৫০০ গজ দূরে সিগন্যালে গিয়ে গাড়িটি দাঁড়ালে ওয়াসিফ বাঁ পাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করেন। তখনো তিনি নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে সবাই নেমে আসেন। তাঁরা বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে এখনই মেরে ফেলব’—এ কথা বলে তাঁকে কিলঘুষি মেরে রক্তাক্ত করেন। ওয়াসিফের স্ত্রী স্বামীকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাঁকেও ধাক্কা দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় জনতা ও ট্রাফিক পুলিশ এগিয়ে গেলে গাড়িচালক ছাড়া অন্য হামলাকারীরা পালিয়ে যান। ওয়াসিফ আহমদের অভিযোগ, গাড়ি থেকে নেমে সাদা পাঞ্জাবি পরা ইরফান সেলিম তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলা চালান।

রাত পর্যন্ত র‌্যাবের অভিযান : এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চকবাজারের বড় কাটরার ২৬ দেবীদাস ঘাট লেনের ‘চাঁন সরদার দাদা বাড়ী’ নামে হাজি সেলিমের পৈতৃক বাড়ি ঘিরে ফেলে র‌্যাব। ১২টার পর শুরু হয় বাড়ির ভেতরে তল্লাশি। অভিযানকারী টিমের সঙ্গে ছিলেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। উত্সুক জনতাও সেখানে ভিড় করে। অভিযানে ইরফানকে আটকের খবর ছড়ালেও র‌্যাব তা অনুষ্ঠানিকভাবে জানায় বিকেল ৩টায়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, “বাড়িটিতে হাজি সেলিম ও তাঁর পুত্র মোহাম্মদ ইরফান সেলিম সপরিবারে থাকেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা ইরফান সেলিম ও তাঁর দেহরক্ষী জাহিদকে ৯ তলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ‘হেফাজতে’ নেওয়া হয়েছে।”

এরপর সন্ধ্যার দিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাড়িটি থেকে লাইসেন্সবিহীন একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৮টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া ও ছয় লিটার বিদেশি মদ, ৪০০ পিস ইয়াবা ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে।’ হাজি সেলিম কোথায় জানতে চাইলে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘তিনি বাড়িতে নেই। অভিযানের আগেই তিনি স্ত্রীসহ ডাক্তারখানায় গেছেন বলে জানা গেছে। বাড়ির নিচতলায় ইরফানের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়।’

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ২৪ ঘণ্টা মনিটর করতে হাজি সেলিমের বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিসহ অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম। সেখানে রয়েছে আধুনিক ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার), ড্রোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস। এ ধরনের ডিভাইস বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার অবৈধ।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে হাজি সেলিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী বেলাল হোসেনের মোবাইলে ফোন করে তাঁরও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইরফানের টর্চার সেলে হাড়ও! : গতকাল রাত ৮টার দিকে চকবাজারের মদীনা আশিক টাওয়ারের ১৭ তলায় অভিযান চালিয়ে ইরফান সেলিমের গোপন অফিসে টর্চার সেলের সন্ধান পায় র‌্যাব। সেখানে আরো ওয়াকিটকি, হাতকড়া, মানুষের হাড়, দড়ি, চাকু, গামছা ও ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়। ভবনের ১৬ তলায় হাজি সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা ডেভেলপারের অফিস। এর ওপরেই ছাদে ‘টর্চার সেল’। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. ক. আশিক বিল্লাহ বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য ছিল, ১৭ তলায় একটি গোপন কক্ষ আছে। এই কক্ষটি ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পাওয়া হাড় মানুষের কি না তা ফরেনসিক করে জানা যাবে। করার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”

তবে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল খালেক বলেন, ‘মদিনা ডেভেলপারে হাজি সেলিম নিজেও অফিস করেন। তাঁর ছেলে ইরফান সেলিমও মাঝে মাঝে আসেন। তাঁরা ছাদেও যান। তবে টর্চার সেলের বিষয়ে কিছু জানি না।’

অন্যদিকে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সুপারিশ পেলে ইরফান সেলিম কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হতে পারেন। তবে এ ধরনের প্রস্তাব সিটি করপোরেশন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগে এখনো আসেনি।’

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাজি সেলিমের তিন ছেলের মধ্যে ইরফান ছোট। বড় ছেলে সোলায়মান সেলিম একজন ব্যবসায়ী। মেজো ছেলে আশিক সেলিম বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায়। পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাজি সেলিমের অনেক বাড়ি রয়েছে। এবার তৃতীয় মেয়াদে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হন তিনি। এর মধ্যে একবার বিদ্রোহী হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তাঁর ছেলে ইরফানও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গত সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা