kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ফের রাতে বসলেন হাইকোর্ট

দুই বোন ঢুকলেন পৈতৃক বাড়িতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০১:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই বোন ঢুকলেন পৈতৃক বাড়িতে

রাতে আবারও হাইকোর্ট বসলেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার রাত সোয়া ৭টায় এক আদেশে দুই বোনকে পুলিশ পাহারায় পৈতৃক বাড়িতে ঢোকার ব্যবস্থা নিতে গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

এ নির্দেশ মেনে পুলিশ বিমানচালক মরহুম মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশ্বেরা মোস্তফাকে রাতেই রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে (৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়ি) তাঁদের পৈতৃক বাড়িতে ঢোকার ব্যবস্থা করেছে। একই সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর রাতে আদালত বসিয়ে ধানমণ্ডিতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কে এস নবীর দুই পৌত্রকে বাড়িতে তুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেন। বরিশালের বাকেরগঞ্জের চার শিশুকে জামিন দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, দুই বোনকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না—এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন। 

আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িটির সামনে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে দুই বোনের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় দুই বোন মুশফিকা ও মোবাশ্বেরা এবং মরহুম মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের স্ত্রী দাবি করা আঞ্জু কাপুরকে নিয়ে গুলশান থানার ওসিকে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ প্রতিপালনের বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। 

আদালতের এ আদেশের বিষয়টি রাতেই গুলশান থানার ওসিকে টেলিফোনে অবহিত করেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। পরে রাতেই দুই বোনকে বাড়িতে ঢোকার ব্যবস্থা করে গুলশান থানার পুলিশ।

জানা যায়, সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই পাইলট মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ গত ১০ অক্টোবর মারা যান। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় ২০০৫ সালে। বড় মেয়ে মুশফিকা লেখাপড়ার জন্য ২০১৩ সালে দেশ ছাড়েন। মোবাশ্বেরা বিয়ের পর আমেরিকা চলে যান।

ফলে মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ একা হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ভারতের বেঙ্গালুরের মেয়ে আঞ্জু কাপুরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে ২০১৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয় বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওয়াজি উল্লাহ। 

মুশফিকা ও মোবাশ্বেরার অভিযোগ, তাঁরা গত শনিবার সকাল থেকে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা