kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

‘গরিবের ক্যাসিনো’ ঢুকলেই ফকির

অভিযানে গ্রেপ্তার ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাভার   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০২:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘গরিবের ক্যাসিনো’ ঢুকলেই ফকির

আশুলিয়ায় শনিবার রাতে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে একটি ক্যাসিনো বোর্ড, ইয়াবা, বিয়ার ও নগদ টাকা জব্দ করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয় ২১ জনকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে ক্যাসিনো-জুয়ার আস্তানা প্রকাশ্যে আসার পর এবার নগরের উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় মিলেছে ব্যতিক্রমী এক ক্যাসিনো। গত শনিবার রাতে এই জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে একটি ক্যাসিনো বোর্ড, ইয়াবা, বিয়ার ও নগদ টাকা জব্দ করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ জনকে।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে এই ক্যাসিনো কারবার চলে আসছিল। সাধারণের চোখকে আড়াল করতে সামনে ক্যারম খেলার বোর্ড বসিয়ে ঘরের ভেতরে মিনি ক্যাসিনোর প্লেয়িং বোর্ডে চলত জুয়া। সেখানে অভিজাত ক্লাবের মতো লাখ লাখ টাকা নয়, খেলা চলত শত বা হাজারের অঙ্কে। আর এখানে আগতদের বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ। জুয়া খেলার সঙ্গে চলত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনও। এই ক্যাসিনো-জুয়ার আসরে প্রতিরাতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতবিনিময় হতো। বড় ক্যাসিনো বারের আদলে গোপনে চলা এই জুয়ার আসরকে স্থানীয়রা বলছে ‘গরিবের ক্যাসিনো’। আর এই ক্যাসিনোতে গিয়ে ফতুর হয়ে ফিরতেন ‘গরিবেরা’।

র‌্যাব-৪-এর কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আশুলিয়া থানার কাইচাবাড়ি এলাকায় এই জুয়ার আসরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্লেয়িং কার্ডসহ একটি ক্যাসিনো বোর্ড, এক শ পিস ইয়াবা, ১২ ক্যান বিদেশি বিয়ার, ২২টি মোবাইল ফোনসেট ও ৩৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ২১ জনকে। তাঁরা হলেন—বিল্লাল, জুয়েল, মইদুল ইসলাম, সবুজ মিয়া, শরিফ, লিটন, রবিউল মোল্যা, আবু তালেব, দিয়াজুল ইসলাম, শিপন, আব্দুল আলিম, আজাদুল ইসলাম, সোহেল মোল্যা, আসাদুল ইসলাম, এখলাছ, মঈন মিয়া, মাসুদ রানা, হাবিবুর রহমান, রুবেল মিয়া, ফজলে রাব্বি ও রনি ভূঁইয়া।

রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ার কার্যালয়ে গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মিনি ক্যাসিনোটি দেড় বছর ধরে চলে আসছিল। প্রতিরাতে এখানে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার জুয়া খেলা হতো। রাত যত গভীর হতো ক্যাসিনো কারবারও তত জমে উঠত। আগতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন এক শ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত খেলার সুযোগ পেত। এই ক্যাসিনো কারবারের মালিকানায় রয়েছে প্লাবন হোসাইন ও ওমর ফারুক নামে দুই ব্যক্তি। অবশ্য তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের ধরতে পারলে এই মিনি ক্যাসিনো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।’

মোজাম্মেল হক জানান, এই ক্যাসিনোতে ইলেকট্রিক বোর্ডের মধ্যে নানা ধরনের মাছের ছবি রয়েছে। সেগুলো ছোটাছুটি করে। টাকা দিয়ে নির্ধারিত মাছ কেনার পর ভার্চুয়ালি গুলি করে মারতে হয়। মারতে পারলে দ্বিগুণ টাকা। মিস করলে পুরোটাই লস। এখানে এই জুয়ায় জড়িয়ে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছে।

দেড় বছর ধরে চলা এই মিনি ক্যাসিনো কাদের ছত্রচ্ছায়ায় চলত—জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এটা বলা মুশকিল। কারণ বাইরে প্রদর্শন করা হয় ক্যারম বোর্ড আর এর ভেতরে চলে জুয়ার আসর বা মিনি ক্যাসিনো।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি যে এই বোর্ড আমদানি করা হয়েছে মালয়েশিয়া থেকে। তবে দেখে মনে হচ্ছে, এটি সম্প্রতি আমদানি করা হয়নি। কে কিভাবে এই ক্যাসিনো বোর্ড আমদানি করেছে আমরা খতিয়ে দেখছি। অবৈধভাবে যারাই এই বোর্ড আমদানি করে থাকুক না কেন খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা