kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনার বন্ধু যে প্রোটিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০৩:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার বন্ধু যে প্রোটিন

মানুষের শরীরে কোন পথে ঢোকে করোনা, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা। অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম প্রোটিনের কথা আগেই বলেছিলেন গবেষকরা। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের দেহকোষে আরো একটি প্রোটিন আছে, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েই কোষের ভেতরে চটপট ঢুকে যেতে পারে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন। এই প্রোটিন করোনার আধার হিসেবে কাজ করে।

ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় এই নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, সার্স-কভ-২ ভাইরাল প্রোটিনের অন্যতম প্রধান হোস্ট ফ্যাক্টর এই প্রোটিন। হোস্ট ফ্যাক্টর মানে হলো, ভাইরাস যখন মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে, তখন মানুষের দেহকোষের প্রোটিনের মধ্য থেকেই তার আধার খুঁজে নেয়। এই আধারকে আঁকড়ে ধরেই কোষের ভেতরে নিজেদের আস্তানা তৈরি করে ভাইরাস। গবেষকরা বলছেন, এই প্রোটিনের নাম নিউরোপিলিন-১। করোনা যে শরীরের নানা অঙ্গের কোষে ছড়িয়ে পড়ছে, তার কারণও হলো এই প্রোটিন। নিউরোপিলিন-১ হলো ট্রান্সমেমব্রেন প্রোটিন। এনআরপি১ জিন দিয়ে তৈরি। দেহকোষের পর্দায় থাকে এই প্রোটিন। এর কাজ হলো রিসেপ্টর বা ধারকের। স্নায়ুর মাধ্যমে আসা বার্তা কোষে পৌঁছে দেওয়া, কোষের সুরক্ষা, মাইগ্রেশন- সবই করে এই প্রোটিন।

স্কুল অব বায়োকেমিস্ট্রির গবেষক পিটার কুলেন, স্কুল অব সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার মেডিসিনের গবেষক ডক্টর ইয়োহেই ইয়ামউচ এই গবেষণা প্রসঙ্গে বলেছেন, মানুষের দেহকোষে এই রিসেপ্টর রক্ষীর কাজ করে। তাই এই প্রোটিনকে আগে কবজা করে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন। ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন এমনভাবে এই রিসেপ্টরকে বশ করে ফেলে যে সুরক্ষার কথা না ভেবেই নিউরোপিলিন-১ স্পাইকের সঙ্গে জুড়ে যায়। ভাইরাসের প্রোটিন ও মানুষের দেহকোষের প্রোটিন একসঙ্গে মিলে যায়। ফলে ভাইরাস সহজেই কোষে ঢোকার রাস্তা পেয়ে যায়। একবার কোষের ভেতরে টপকাতে পারলেই বিভাজিত হয়ে অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরি করে ফেলে। এসব প্রতিলিপি তখন নানা অঙ্গের কোষে ছড়িয়ে পড়ে।

জার্মানির মিউনিখ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, এই নিউরোপিলিন-১ প্রোটিন কোষে ভাইরাসের প্রবেশ শুধু নয়, তার বিভাজনেও সাহায্য করে। আর এই খোঁজকে কাজে লাগিয়েই ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি করা সম্ভব। রিসেপ্টর নিউরোপিলিন-১ প্রোটিনের কার্যকারিতা যদি কমিয়ে দেওয়া যায় বা মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি দিয়ে যদি দেহকোষের প্রোটিন ও ভাইরাল প্রোটিনের সংযুক্তি আটকে দেওয়া যায়, তাহলেই কোষের ভেতরে সংক্রমণ ছড়াতে পারবে না। এটাই হবে করোনাকে ঘায়েল করার অন্যতম বড় অস্ত্র।

সূত্র : দ্য ওয়াল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা