kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা

উপকূলের বেড়িবাঁধের উচ্চতা হবে ৩-৭ ফুট

১৭ পোল্ডারে কাজ শুরু, দ্রুতই আরো ১৩টিতে

নিখিল ভদ্র    

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০৩:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপকূলের বেড়িবাঁধের উচ্চতা হবে ৩-৭ ফুট

ফাইল ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে উপকূলের জানমাল এবং প্রকৃতি রক্ষায় বেড়িবাঁধ উঁচু ও টেকসই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের ডেল্টা প্ল্যান অনুযায়ী উপকূলে স্থানভেদে বাঁধগুলো তিন থেকে সাত ফুট পর্যন্ত উঁচু করা হবে। এরই মধ্যে ১৭টি পোল্ডারে এই কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত আরো ১৩টি পোল্ডারে এই কাজ শুরু হবে। তবে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের উচ্চতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত কার্যপত্রে বেড়িবাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, স্বাধীনতা-উত্তরকালে নির্মিত বাঁধগুলো খুবই নিচু ও ছোট, যে কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি জোয়ারের পানি বাড়লেই বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের অবস্থা খুবই নাজুক। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ওই অঞ্চলের অন্তত ৩৯টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়াতে ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় বাঁধগুলো ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালে আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার বেশির ভাগই এখনো যথাযথভাবে সংস্কার করা হয়নি। সর্বশেষ গত ২৫ মে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলের ১৫২টি স্থানে ৫০.৪৭৮ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। আর ৫৮৩টি স্থানে ২১০ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সব বাঁধের পাশাপাশি পুরো উপকূলীয় অঞ্চলকে ঝুঁকিমুক্ত করতে বেড়িবাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এসংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনার কথা সংসদীয় কমিটি বৈঠকের কার্যপত্রে তুলে ধরে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতসহিষ্ণু সমৃদ্ধিশালী বদ্বীপ গড়ে তোলাসহ ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার কৃষি ও শিল্প অর্থনীতি, ম ৎস্য, বনায়ন, জনস্বাস্থ্য, পানি ব্যবস্থাপনা ও

পরিবেশ খাতকে সমন্বিত করে প্রথম শতবর্ষী মহাপরিকল্পনা ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ হাতে নিয়েছে। ওই ডেল্টা প্ল্যান অবলম্বনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো ডিজাইনের ক্ষেত্রে বৃহত্তর নদ-নদীর জন্য ২০০ বছরের এবং ছোট নদ-নদীর জন্য ২১ বছরের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের পানি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ জন্য উপকূলীয় বাঁধগুলোর উচ্চতা প্রয়োজন অনুযায়ী তিন থেকে সাত ফুট বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী নির্মাণের লক্ষ্যে বাঁধের ঢালে, পোল্ডারের ভেতরে এবং অধিগ্রহণ করা জমিতে যথাযথভাবে বৃক্ষ রোপণ করা হবে।

কার্যপত্রে আরো বলা হয়েছে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও জোয়ারের পানি প্রতিরোধে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাধীনতার আগে নির্মিত ছোট বাঁধগুলো উঁচু ও মজবুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার ১৩৯টি পোল্ডারে পর্যায়ক্রমে ‘উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর ১৭টি পোল্ডারে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমুদ্রের পানি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বাঁধের উচ্চতা তিন থেকে পাঁচ ফুট বাড়ানো হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ওই ১৭টি পোল্ডারের বাইরে আরো ১৩টি পোল্ডারে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় তিন হাজার ২৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ হবে।

এ ব্যাপারে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, দীর্ঘদিন পর সরকার উপকূলের বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো উপকূলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।

তবে বাঁধের উচ্চতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন নাগরিক সংগঠন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন। সংগঠনের নির্বাহী সদস্য পলাশ আহসান বলেন, ষাটের দশকে নির্মিত এই বাঁধগুলোর উচ্চতা ছিল গড়ে ১২ ফুট, এখন যেটা সর্বোচ্চ ৩০ ফুট পর্যন্ত করা প্রয়োজন। যথাযথ সমীক্ষার মাধ্যমে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা