kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তারা

ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ভিকটিম-সাক্ষীর নিরাপত্তা রক্ষার বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ২০:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ভিকটিম-সাক্ষীর নিরাপত্তা রক্ষার বিকল্প নেই

মামলার ভিকটিম ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে একটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গেলে ভিকটিম ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) কর্তৃক এই গবেষণার ফলাফল বুধবার উপস্থাপন করা হয়।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, মহিলা আইনজীবী পরিষদের অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল, অ্যাডভোকেট এলিনা খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাপস কুমার দাস, অ্যাডভোকেট হাবিবুন্নেসা, অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এমজেএফ-এর রিনা রায়।

পরিসংখ্যানে বলা হয়, ভিকটিম ও সাক্ষীদের বিষয়ে ঢাকাসহ সাতটি বিভাগের বিভিন্ন জেলার ৭৬৩ জন মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এতে শতকরা ৩৯ ভাগ জানিয়েছে মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে যেতে হলে তাদের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। শতকরা ৩৩ ভাগ বলেছেন সাক্ষী দিতে হলে শারীরিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। আর শতকরা ২৭ ভাগ বলেছেন সামাজিক সাপোর্ট প্রয়োজন। কেউ কেউ বলেছেন আদালতের স্টাফরা দুর্ব্যবহার করে বিধায় অনেক সাক্ষী আদালতে যেতে চান না। আদালতে ভিকটিম ও সাক্ষীর বসার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণেও কেউ কেউ যেতে চান না। এই ফলাফল তুলে ধরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইনে ভিকটিম বা সাক্ষীর জন্য আদালত ও থানায় বসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে ড. মিজানুর রহমান বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে ভিকটিম ও সাক্ষীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, ভৌগলিক ও মানষিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। যেকোনো মূল্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন কারো প্রতি অন্যায় করা না হয় তা দেখতে হবে। এই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে ভিকটিম ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আইন করার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইন হতে হবে বাংলাদেশের বাস্তবতার প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে।

শাহীন আনাম বলেন, একটি মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে ওই মামলার ভিকটিম ও সাক্ষীর নিরাপত্তা আগে ভাবতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে তাদের নিরাপত্তার জন্য কোনো আইন নেই। তাই তাদের নিরাপত্তার জন্য আইন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা ভিকটিম ও ইউটনেস প্রটেকশন অ্যাক্ট করার জন্য একটি খসড়া তৈরি করে তা সুপারিশ আকারে সরকারের কাছে পাঠাতে চাই। তিনি বলেন, এ ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় নারীরা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা ঠিকমতো বিচার পায়না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা