kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মিল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নভেম্বরের মধ্যে : পাটমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নভেম্বরের মধ্যে : পাটমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে বিজেএমসির সকল মিলের শ্রমিকদের পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দাস্তগীর গাজী, বীরপ্রতীক।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে বিজেএমসির বন্ধ ঘোষিত মিলসমূহের অবসরপ্রাপ্ত ও অবসানকৃত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম, এনডিসি উপস্থিত ছিলেন ।

মন্ত্রী বলেন, বিজেএমসির বন্ধ ঘোষিত মিলসমূহের অবসরপ্রাপ্ত ও অবসানকৃত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে এ পর্যন্ত ৮টি মিলের শ্রমিকদের পাওনা বাবদ মোট ১ হাজার ৭৯০ কোটি ৫২ লাখ টাকা অর্থ বিভাগ থেকে পাওয়া গিয়েছে। যা শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। আগামী ২৫ অক্টোবর তারিখে আরো ২টি মিলের (চট্টগ্রামের হাফিজ জুট মিল ও খুলনার ইস্টার্ণ জুট মিল) শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় আগামী মাসের মধ্যে সকল মিলের শ্রমিকদের পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

গোলাম দাস্তগীর গাজী বলেন, পৃথিবী জুড়ে পাটের কদর ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটচাষিরা কাঁচা পাটের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। চলতি পাট মৌসুমে কাঁচা পাটের গড়দর ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ ভাগ বেশি। এর ফলে পাটচাষিরা ভবিষ্যতে অধিক পরিমাণে পাট চাষে আগ্রহী হবে। এতে করে দেশের অর্থনীতিতে পাটখাতের অবদান আরো সুসংহত হবে বলে আশা করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, বন্ধ ঘোষিত পাটকলসমূহের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি সার্বিকভাবে পাটখাতকে পুনরুজ্জীবিত এবং মিলগুলোকে উপযুক্ত মডেলে আধুনিকায়ন ও পুনঃচালু করার লক্ষ্যে মিল ও বিজেএমসির অন্যান্য সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে অনুসরণীয় কর্মপন্থা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ এবং বিজেএমসির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় জনবলের যৌক্তিকীকরণ বিষয়ে সুপারিশ প্রদানকল্পে সরকার কর্তৃক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করা যায় যে বর্ণিত কমিটি দুটির সুপারিশের আলোকে বন্ধ ঘোষিত মিলগুলো নতুন আঙ্গিকে পুনরায় চালু হবে এবং এভাবে পুনঃচালুকৃত মিলে পূর্বের অভিজ্ঞ শ্রমিকগণ পুনঃকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

সরকারি সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলসমুহে বিরাজমান পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এবং পাটখাত পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলে কর্মরত সকল স্থায়ী শ্রমিকের গ্র্যাচ্যুইটি, পিএফ ও ছুটি নগদায়নসহ গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধার মাধ্যমে চাকুরি অবসানপূর্বক উৎপাদন কার্যক্রম ১ জুলাই ২০২০ তারিখ হতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকদের আর্থিক দুরাবস্থা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী উক্ত ২৫টি মিলের ২৪ হাজার ৬০৯ জন স্থায়ী কর্মরত শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা বাবদ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা এবং ২০১৩ সালের পরে হতে অবসরপ্রাপ্ত ১০ হাজার ১০৭ জন শ্রমিকের সাকল্য পাওনা বাবদ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকাসহ মোট প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা চলতি অর্থবছরে এককালীন পরিশোধের সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। শ্রমিকদের ভবিষ্যত আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের পাওনার ৫০ভাগ নগদে এবং অবশিষ্ট ৫০ভাগ তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা