kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সিলেটে হেফাজতে মৃত্যু

কনস্টেবল টিটু গ্রেপ্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড

সিলেট অফিস    

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০৩:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কনস্টেবল টিটু গ্রেপ্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে নিহত রায়হানের পরিবারের সঙ্গে গতকাল দেখা করতে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ সময় রায়হানের স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুলিশের নির্যাতনে রায়হান হত্যার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এদিকে রায়হান হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন খবরে গতকাল মঙ্গলবার সিলেটজুড়ে তোলপাড় হয়েছে। তবে এই খবরের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পৃথক ঘটনায় রায়হান হত্যার প্রতিবাদ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে নগরের কোর্ট পয়েন্টে চলা বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

কনস্টেবল টিটুকে গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক জিহাদুর রহমানের আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল দুপুরে পুলিশ লাইনস থেকে টিটুকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এই কনস্টেবল রায়হান হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের একজন। তাঁর সঙ্গে বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন—এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম ও হারুন উর রশীদ।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) খালেদুজ্জামান বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তাঁকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে পুলিশ হেফাজতে রায়হান হত্যা ঘটনার হোতা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—এমন খবরে গতকাল দুপুরের পর থেকে সিলেটজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর সত্যতা নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সিলেটের পুলিশ পরিদর্শক মুহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আকবর গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করলে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে বিষয়টি আমার জানার কথা।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অফিশিয়াল তথ্য আসেনি। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের স্ক্রলে যখন এই তথ্য দেখানো হচ্ছিল তখন আরটিভিতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা ব্রিফ করছিলেন। ওই সময় তিনি আকবর বিষয়ে বলেন, তাকে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সুতরাং এমন কিছু হলে তিনি সেখানেই তা বলতেন।’

পুলিশের গাড়িতে হামলা : রায়হান হত্যার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ। কর্মসূচি চলাকালে সেখান দিয়ে পুলিশের গাড়ি যাচ্ছিল। হঠাৎ সমাবেশের একাংশ গাড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। তাদের কয়েকজন পুলিশের গাড়িতে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে কয়েকজন গাড়িটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে গাড়িটি সেখান থেকে দ্রুত চলে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের আরো বলেন, ‘গাড়িটি এসএমপির সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরীর। তিনি বাসা থেকে আদালতের দিকে যাওয়ার পথে গাড়িতে হামলা হয়।’

রায়হানের বাড়িতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী : স্বজনহারা পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গতকাল রায়হানের বাড়িতে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। পরে নিহত রায়হানের আড়াই মাস বয়সী কন্যা আলফাকে ‘মোমেন ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা উপহার হিসেবে তুলে দেন তিনি।

সিলেট-১ আসনের এই সংসদ সদস্য রায়হানের পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পুলিশের আইজির সঙ্গেও কথা হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাব কাজ করছে। এই হত্যার বিচার অবশ্যই হবে। প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর যেখানেই থাকুক গ্রেপ্তার করা হবে। বিদেশে পালিয়ে গেলেও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, অনেকেই এই ঘটনায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। বিচারের দাবিতে রায়হানের পরিবারের দেওয়া আলটিমেটাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন কভিডের সময়। তাই হরতাল দেওয়া উচিত হবে না।’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির খানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা