kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনায় রিটার্ন জমা নিয়ে ভোগান্তির শঙ্কা

আয়কর মেলা স্থগিত, অনলাইনেও জমার সুযোগ নেই

ফারজানা লাবনী   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০২:৪৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনায় রিটার্ন জমা নিয়ে ভোগান্তির শঙ্কা

চলতি করবর্ষের নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩০ নভেম্বর। বাকি আছে আর এক মাস ১০ দিন। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবার আয়কর মেলা হবে না। অন্যদিকে অনেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে আগ্রহী হলেও এবার সে সুযোগও থাকছে না। ফলে করদাতারা ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন। আর করোনার প্রভাবে আর্থিক সংকটে গত বছরের তুলনায় এবার কর ও রিটার্ন জমা কম হওয়ার আশঙ্কা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে এনবিআর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ন্যূনতম কর প্রযোজ্য না হলেও রিটার্ন জমা দিতে হবে।

এনবিআর সদস্য আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিটার্ন জমা দেওয়া একজন নাগরিকের নিয়মিত কাজ। রিটার্ন ফরম এনবিআরের ওয়েবসাইট বা কর সার্কেল থেকে সংগ্রহ করে সেখানে তার আয়, ব্যয় ও সম্পদের বিবরণ লিখে হিসাব করে যা হবে তা ব্যাংকে জমা দিতে হবে। কর পরিশোধের প্রমাণ ও আয়কর রিটার্ন ফরম কর অঞ্চলের নির্দিষ্ট সার্কেলে জমা দিয়ে আয়কর পরিশোধের সনদ নিতে হবে।’

কারা করযোগ্য : বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসা ভাতা বাদ দিয়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে করদাতাদের কোনো কর দিতে হবে না। মহিলা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে আয়কর সীমা তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এই সীমার বাইরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হবে ৫ শতাংশ হারে। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, চার লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর কর দিতে হবে ২৫ শতাংশ। করদাতা বেতনপ্রাপ্ত হলে আয়কর বিবরণীর সঙ্গে বেতন বিবরণী জমা দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব থাকলে বা ব্যাংক সুদ থেকে আয় থাকলে ব্যাংক বিবরণী বা ব্যাংক সার্টিফিকেট দিতে হবে। বাড়িভাড়া থেকে আয় থাকলে ভাড়ার চুক্তিনামা বা ভাড়ার রসিদের কপি, ভাড়া পাওয়ার বিবরণ এবং প্রাপ্ত বাড়িভাড়া জমা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বিবরণী রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে হবে। তবে করযোগ্য আয় না থাকলেও সীমিত কিছু ক্ষেত্র ছাড়া ১৮ বছর হলেই একজন ব্যক্তিকে রিটার্ন জমা দিতে হবে। রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতা বিদেশে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

অনলাইনে রিটার্ন জমার সুযোগ নেই : অনেকে ঘরে বসে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে আগ্রহী হলেও এবার এই সুযোগ নেই। ভিয়েতনামের এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেম করপোরেশন নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এনবিআরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সফটওয়্যারটি তৈরি করেছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে এনবিআরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনলাইনে রিটার্ন জমার লিংকটি বন্ধ হয়ে গেছে।

আয়কর মেলা স্থগিত : ২০১০ সালে এনবিআর আয়োজিত প্রথমবারের মতো আয়কর মেলার সেবা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার ৫১২। আয়কর মেলায় হয়রানিমুক্তভাবে কর পরিশোধ, রিটার্ন দাখিলসহ রাজস্বসংক্রান্ত সেবা পাওয়ায় প্রতি করবর্ষে এই মেলায় আসা মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল। গত বছর আয়কর মেলায় সেবা নিয়েছিলেন ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৭ জন, রিটার্ন দাখিল করেছেন ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৯৫ জন। আয়কর আহরণ হয়েছে দুই হাজার ৬১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৬৮ টাকা। গত বছর রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলায় আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবার করোনা সংক্রমণ এড়াতে আয়কর মেলা হবে না।

এনবিআরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছর আয়কর মেলায় প্রচুর জনসমাগম হয়। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে এবার আয়কর মেলা হবে না। তবে মেলা না হলেও প্রতিটি কর অঞ্চলে মেলার মতো আন্তরিক ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে আয়কর রিটার্ন জমা নেওয়াসহ সব সেবা দেওয়া হবে।’

নিয়মিত সময়ের পর রিটার্ন জমা ও জরিমানা : আয়কর আইন অনুযায়ী প্রতি করবর্ষের শুরু থেকে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জরিমানা ছাড়া ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। করদাতা যে কর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত সেই কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারের অনুমতি নিয়ে এ সময়ের পরও ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। অনুমতি ছাড়া নিয়মিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে ১২৪ ধারায় ন্যূনতম এক হাজার টাকাসহ পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। 

কর ও রিটার্ন জমা কম হওয়ার আশঙ্কা : করোনার প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি। এর মধ্যে দেশের বড় অংশজুড়ে হয়ে গেছে বন্যা। মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশির ভাগ মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। অথচ কমেনি জীবনযাত্রার ব্যয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এত দিন অনেকে করসীমায় থাকলেও এবার আর্থিক সংকটে তাঁদের করযোগ্য আয় থাকছে না। অন্যদিকে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে করসীমায় এখনো থাকলেও কর পরিশোধে তাঁদের অনেকের সামর্থ্য থাকছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা