kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

জামিনের নামে পেশকারের বিরুদ্ধে সাত লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০১:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামিনের নামে পেশকারের বিরুদ্ধে সাত লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) জালাল হোসেনের বিরুদ্ধে আসামিকে দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে সাত লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগী ওই নারী ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘যেহেতু আইনজীবী ব্যতীত আদালতের কোনো কর্মচারী আসামিপক্ষে মামলা গ্রহণ, পরিচালনা, জামিন করানোসহ টাকা গ্রহণ করতে পারে না বিধায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেঞ্চ সহকারী জালালের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে মর্জি হয়।’

এই চিঠির একটি অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জালাল যে আদালতের পেশকার সেই পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজকেও দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামপুরা থানার ০৯(২)২০ মামলায় চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব হোসেন নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। ছেলে বিপ্লবের জামিনের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করেন তাঁর মা হামিদা বেগম। তবে দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আসামি বিপ্লবের মায়ের কাছ থেকে বিগত ২০ ফেব্রুয়ারি সাত লাখ টাকা ঘুষ নেন পেশকার জালাল। তবে আশ্বাস অনুযায়ী আসামিকে জামিন করাতে না পারায় হামিদা পেশকার জালালের কাছে সেই টাকা ফেরত চান। 

টাকা পরিশোধে পেশকার জালাল তিন লাখ টাকার একটি ও দুই লাখ টাকার আরেকটি চেক প্রদান করেন। এ ছাড়া দুই লাখ টাকা নগদ ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে ভুক্তভোগী সেই চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারেননি এবং নগদ দুই লাখ টাকাও ফেরত পাননি। 

হামিদা বেগমের আইনজীবী মো. আক্তার হোসেন বলেন, সব মা-বাবাই চান সন্তান জেলে থাকলে দ্রুত জামিন হোক। আর পেশকার জালাল সেই সুযোগটা নিয়েছেন। দুই হাজার ৩৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মাত্র তিন মাসের মধ্যে জামিন করানোর আশ্বাস দেন। এ জন্য সাত লাখ টাকাও নেন। কিন্তু জামিন তো করাতেই পারেননি, উল্টো সাত লাখ টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী খান হাসান বলেন, ‘পেশকার জালাল অনেকের কাছ থেকে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। হামিদা নামের এই অভিযোগকারী তার বিরুদ্ধে সাত লাখ টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন। সে নিজেও আমাদের কাছে মোবাইলে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। একজন বেঞ্চ সহকারী এমন কাজ করে অবশ্যই অপরাধ করেছে। তাই আমরা মহানগর দায়রা জজ বরাবর চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানিয়েছি।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা