kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

একনেকে প্রধানমন্ত্রী

গ্রামীণ রাস্তা আরো মজবুত করতে হবে

অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে লাইটিং জোরদারের তাগিদ
একনেকে ১৬৬৮ কোটি টাকার চার প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রামীণ রাস্তা আরো মজবুত করতে হবে

গ্রামীণ রাস্তায় মাটি টানার ট্রাক্টর, মালবাহী ট্রাকসহ ভারি যানবাহন চলাচল করার কারণে রাস্তাগুলো বেশি দিন টেকে না। তাই এখন থেকে গ্রামীণ রাস্তাগুলো আরো মজবুত করে তৈরি করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন গ্রামীণ রাস্তায় বেশি ভারি যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাগুলো টেকসই হচ্ছে না। গ্রামে অনেক রাস্তাঘাট হয়েছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হয়েছে। ফলে গ্রামে ভারি যানবাহন চলছে। এখন সময় এসেছে গ্রামীণ রাস্তাগুলো টেকসই করা। যাতে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো যায়। 

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় গতকাল একনেক সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন অনুশাসন তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ছে। তাই বিমানবন্দরগুলোতে যথেষ্ট লাইটিং ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সারা দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। এ কারণে বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহার বাড়ছে। তাই বিমানবন্দরগুলো সব সময় সংস্কারের মধ্যেই রাখতে হবে। তা ছাড়া রাতের বেলায় সহজে যাতে উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারে সে জন্য লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তাঁদের এই পরিকল্পনা আছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব আরো বলেন, খাদ্য উত্পাদন ও নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। নদীর পানি, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি ল্যান্ডফিলগুলো যাতে পানি দূষিত না করে সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, পানির উেসর কাছে ল্যান্ডফিল করা যাবে না। 

পরিকল্পনাসচিব বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে সেচকাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর কথা বলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। 

গতকাল একনেক সভায় দেশের তিন বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন ও লাইটিংব্যবস্থা উন্নয়নসহ চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫২৫ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। বিমানবন্দর তিনটি হচ্ছে—যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহী বিমানবন্দর। 

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে—৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের রানওয়ে সারফেসে অ্যাসফল্ট কংক্রিট ওভারলেকরণ প্রকল্প, ৩০১ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কদমরসুল অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, ৫৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং ২৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা