kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রাথমিকের শিক্ষকদের টাইমস্কেল কর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ২০:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাথমিকের শিক্ষকদের টাইমস্কেল কর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চেয়ে আইনি নোটিশ

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইম স্কেল কর্তনে অর্থ মন্ত্রণালয় ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় তা প্রত্যাহার চেয়ে অর্থ সচিব, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা সচিব এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকসহ চারজনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল' রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই নোটিশ পাঠানোর তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি এস এম এ মান্নান, মহাসচিব মো. মুনছুর আলী ও সাংগঠনিক মো. হাবিবুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, টাইম স্কেল কর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।

প্রায় ৩৭ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয় ১৯৭৩ সালে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি শিক্ষক মহাসমাবেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করা এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির শর্ত ঠিক করে একটি বিধিমালা জারি করে। এই বিধিমালার আলোকে শিক্ষকরা টাইমস্কেল পেয়ে আসছেন। কিন্তু চলতি বছরের ১২ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের ওই টাইমস্কেল বাতিল করে একটি আদেশ জারি করে। একইসঙ্গে ক্ষেত্রে টাইম স্কেল বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ আদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহীর গাঙ্গোপাড়া বাগমারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক এ রিট আবেদন করেন। ওইদিন হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করে দেন। এরপর হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি গত ৮ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের ক্ষেত্রে টাইম স্কেল বাতিল করে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেয়। এ অবস্থায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়। এই নোটিশ উপেক্ষা করে টাইম স্কেল কর্তন অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিস্ট দপ্তর। এ কারণে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা