kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

দেড় দশকেও কাটেনি সংকট

মাসুদ রানা   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ১৬তম বর্ষে পদার্পণ করছে আজ মঙ্গলবার। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এই দেড় দশকেও বিদ্যমান নানামুখী সংকটের সমাধান হয়নি। তার পরও সংকটকে সঙ্গী করেই আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথে হেঁটে চলেছে বিদ্যায়তনটি।

জানা যায়, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৫৮ সালে, ব্রাহ্মদের স্কুল হিসেবে। ১৮৭২ সালে এর নাম বদলে রাখা হয় জগন্নাথ স্কুল। পরে তা কলেজে উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ পাসের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সনদ লাভ করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বর্তমানে মোট ছয়টি অনুষদের অধীনে ৩৬টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউট রয়েছে। ৬৭৯ জন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার ১৬৫। 

বিশ্ববিদ্যালয়টি মাত্র ১১.১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অবশ্য গত বছরের ৯ অক্টোবর কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার ৯২০ কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু এক বছর পার হলেও ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পে আর কোনো অগ্রগতি নেই। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫-এ ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)’ বিষয়ে কোনো ধারা বা উপধারা নেই। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৯ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ওই ধারা বা উপধারা সংযোজন এবং ‘জকসু’ গঠনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিটি করে কর্তৃপক্ষ। তারপর এ বিষয়ে আইন সংশোধন ও গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া উপাচার্য বরাবর জমা দিলেও তাতে ইতিবাচক সাড়া নেই। 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও ট্রেজারার থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমানুপাত ইতিবাচক থাকলেও শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েই গেছে। একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করলে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য দুই শিফটের দাবি করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হবে। এরপর বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। পরে বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হল উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ সালে হলেও মূলত ২০১১ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র ১০ বছরে আমরা মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আবাসন সংকট নিরসনে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ছাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। আশা করি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা