kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সবজি এখন আশির ঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০২:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবজি এখন আশির ঘরে

দাম বেড়ে পাহাড় চূড়ায় উঠে যাওয়া সবজি এখন আকাশমুখী। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহেও ৬০ টাকা কেজিতে বেশ কয়েক ধরনের সবজি পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহে সেগুলোর প্রায় সবই ৮০ টাকায় উঠে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য যেমন চাল, ডাল, তেল ইত্যাদির দাম আগের মতোই চড়া রয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের চালান বন্দরে খালাস হতে শুরু করলেও চড়া বাজারে এর প্রভাব নেই।

রাজধানীর মুগদা, মালিবাগ, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার অধিকাংশ সবজি ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি সবজির দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকায় রয়েছে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে পাঁচ টাকা। ব্যতিক্রম শুধু ব্রয়লার মুরগিতে, কেজিতে কমেছে ১০ টাকা।

বাজারের এমন ঊর্ধ্বগতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাঁরা বলছেন, চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ কোনো বাজারেই সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। লোক-দেখানো অভিযান হলেও তা ছোট ছোট ব্যবসায়ী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। যাঁরা দামের কারসাজি করেন সেই মূল হোতাদের শাস্তির আওতায় আনা হয় না।

গতকাল রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে ১৬ প্রকারের সবজির দর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এর মধ্যে আটটির দামই ৮০ টাকা কেজি বা তার ওপরে। এর মধ্যে করলা, বেগুন, কাঁকরোল, বরবটি, গাজরসহ আরো বেশ কিছু সবজির দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। এগুলো গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া গেছে। শিমের দাম চলতি সপ্তাহে ১৪০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় উঠেছে। টমেটো ১২০ ও কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া মুলা, পটোল, কচুমুখি, কচুর লতি, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স ও পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। এসব সবজির দামও গত সপ্তাহে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম ছিল। আলু আগের মতোই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। সব ধরনের শাকের ছোট আঁটি ২০ থেকে ২৫ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস।

মুগদা বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে সবজির দাম কিছুটা কমতির দিকে ছিল। কিন্তু এ সপ্তাহে আবার বেড়েছে।

মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হলেও রাজধানীর বাজারে তা এখনো সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। ফলে দেশি পেঁয়াজ দিয়েই চলছে বাজার। দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। রসুনের দাম ৯০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যেই রয়েছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

চালের বাজার সপ্তাহজুড়েই অস্থির ছিল। কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। সবচেয়ে কম দামের মোটা চালও কিনতে হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি। মিনিকেট ও নাজিরশাইল ৫৬ থেকে ৬৪ টাকা, আটাশ ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি। মসুর ডাল বড় দানা ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও ছোট দানা ১২০ টাকা কেজি। ভোজ্য তেল সয়াবিনের দাম ৯০ থেকে ৯৫ টাকা লিটার।

গরুর মাংসের দাম স্থির রয়েছে ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকায়। মাছের বাজারে তেমন হেরফের নেই। বড় ইলিশ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। রুই ৩০০ থেকে ৪০০, চাষের পাবদা ৪০০, ছোট চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

এদিকে সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। একটু একটু করে চাহিদা কমিয়ে এনেও তারা আর পেরে উঠছেন না। মালিবাগ বাজারে আসা ক্রেতা হারুন অর রশিদ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখছি না। তার পরও ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম বাড়ছে। সরকারের মনিটরিং দুর্বলতায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা