kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

পক্ষপাত করলে ড. কামালই বাদ পড়বেন

মোস্তফা মহসিন মন্টু গণফোরাম নেতা

অনলাইন ডেস্ক   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০২:০৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পক্ষপাত করলে ড. কামালই বাদ পড়বেন

আওয়ামী লীগ ছেড়ে এসে ১৯৯২ সালে গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন ড. কামাল হোসেন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ছেড়ে আসা মোস্তফা মহসিন মন্টু। দীর্ঘদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসা মন্টু গত বছর কাউন্সিলে সেই পদ হারান। তাঁকে বাদ দিয়ে রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করার পর থেকে গণফোরামে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্যে গত ৪ মার্চ গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এরপর গত ২৬ সেপ্টেম্বর বর্ধিত সভা ডেকে কাউন্সিল আহ্বান করেছেন মন্টুরা। এমন প্রেক্ষাপটে মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক শফিক শাফি।

কালের কণ্ঠ : ২৬ ডিসেম্বর বর্ধিত কাউন্সিল ডেকেছেন, ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এটা দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। আপনি কী মনে করেন?

মোস্তফা মহসিন মন্টু : আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একটি কাউন্সিল হবে। কাউন্সিলে নেতা নির্বাচিত হবেন। কাউন্সিলের সদস্য হবেন জেলা প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা। গঠনতন্ত্রে এটাও আছে, কাউন্সিলের পক্ষ থেকে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এই কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক তিন মাস পর পর ডাকা অপরিহার্য। যদি ডাকা না হয় তাহলে সাংগঠনিকভাবে শূন্যতা হবে। আমি যখন সাধারণ সম্পাদক ছিলাম সেই সময় কেন্দ্রীয় কমিটির শেষ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সম্মেলন হবে, সেখানে একটি কমিটি হবে। এটির মেয়াদ হবে এক বছর। এই সম্মেলনে যেসব পদ খালি রয়েছে, অর্থাৎ যাঁরা মারা গেছেন, দল ছেড়ে চলে গেছেন, তা পূরণ করা হবে। এবং এই এক বছরের মধ্যে ওই কমিটি সব জেলা সফর করে সাংগঠনিক কাজ শেষ করবে এবং একটি সম্মেলন করবে। এটাই হবে পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, আমার সময়ে হওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকই হচ্ছে শেষ বৈঠক।

কালের কণ্ঠ : ড. কামাল কী সিদ্ধান্ত নিলেন?

মন্টু : গত বছরের প্রথম দিকে আমাদের সম্মেলন হলো। প্রায় দুই বছর গেল। এর মধ্যে একটিও কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক হয়নি, কোনো সিদ্ধান্তও নেয়নি। আবার ওই কমিটির মেয়াদও বাড়াননি। অনেকবার ড. কামাল হোসেন ও রেজা কিবরিয়াকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডাকেন। উনারা তো ডাকলেনই না, বরং চারজনকে বহিষ্কার করলেন। এরপর চলতে থাকল বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কার। আমি ড. কামাল হোসেনের কাছে গেলাম, বললাম, এই বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারে দলের ক্ষতি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডেকে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেন। উনি বললেন, ঠিক আছে। কিন্তু আজকে বসি কালকে বসি করতে থাকেন। পরে সুব্রত চৌধুরী একটি বর্ধিত সভা ডাকলেন। সে বৈঠকে একটি রেজল্যুশন হলো। সেই সিদ্ধান্ত জানালে, ড. কামাল আমাদের ডাকলেন, আমরা বসলাম। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কালের কণ্ঠ : কামাল হোসেন কি কোনো উদ্যোগ নেননি?

মন্টু : এই সময়ের মধ্যে উনারা কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক তো ডাকেননি, বরং অন্তর্বর্তী যে কমিটি করা হয়েছিল, তা ড. কামাল ভেঙে দিলেন। ফলে কেন্দ্রীয় কমিটি নেই, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও নেই। এরপর হঠাৎ কামাল হোসেন নিজেকে সভাপতি ও রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষণা করলেন। এখন কথা হলো, কমিটি করল কে?

কালের কণ্ঠ : তাহলে সাংগঠনিকভাবে করণীয় কী?

মন্টু : এখন একমাত্র সক্রিয় থাকা জেলা কমিটি মতামতের ভিত্তিতে সব সিদ্ধান্ত নেবে। সে জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর আমরা জেলা কমিটির একটি বর্ধিত সভা করেছি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন হবে। সেই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে।

কালের কণ্ঠ : তাহলে কি ড. কামাল হোসেন কে বাদ দেবেন?

মন্টু : তাঁকে ৫০ বছর ধরে চিনি। তাঁকে খুব শ্রদ্ধা করি। মার্শাল’তে আমার ফাঁসি হলে তিনি আইনজীবী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। উনার শারীরিক অবস্থা ভালো না। বয়সের কারণে তিনি অনেক কিছু ভুলে যান, খেই হারিয়ে ফেলেন। কিছু লোক আছে তাঁর চারপাশে, তাঁরা তাঁকে মিসগাইড করছেন। আমি আগেও বলেছি, কামাল হোসেনকে অবসরে যাওয়া উচিত।

কালের কণ্ঠ : তাহলে জনগণ আসল গণফোরাম কোনটাকে ধরবে?

মন্টু : মাঠের কর্মীরা যে পক্ষে আছে সেটিকে আসল ধরতে হবে। তাদের বাদ দিয়ে আমরা রাজনীতি করতে পারব না।

কালের কণ্ঠ : সে ক্ষেত্রে ড. কামাল বাদ পড়ে যেতে পারেন?

মন্টু : আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব, তিনি যাতে থাকেন। উনি যদি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নিতে চান, উনি থাকবেন। অসুস্থতার কারণে থাকতে না পারলে উনাকে আমরা প্রধান উপদেষ্টা বা পরামর্শক হিসেবে আজীবন রাখব। কিন্তু উনি যদি সমষ্টির দিকে না তাকিয়ে কোনো গ্রুপের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তাহলে তো পার্টিজান হয়ে গেলেন, একটা পক্ষের দিকে নিজেকে নিয়ে গেলেন। সে ক্ষেত্রে তো আমাদের গঠনতন্ত্র মেনে কাজ করতে হবে।

কালের কণ্ঠ : আপনাদের এই বর্ধিত সভাসহ সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে কোনো পক্ষের প্ররোচনা আছে কি?

মন্টু : আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলতে পারি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করিনি। আমরা মনে করেছি, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

কালের কণ্ঠ : ঐক্যফ্রন্টে কারা থাকবেন, ড. কামাল নাকি আপনারা?

মন্টু : আমরা এই ফ্রন্টে থাকব কি না সে সিদ্ধান্ত নেব সবার মতামতের ভিত্তিতে। কাউন্সিল হয়ে গেলে সেখানে যে সিদ্ধান্ত হবে, কেন্দ্রীয় কমিটি তা কার্যকর করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা