kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মোবাইল ফোনের কথাবার্তা রেকর্ড করে ফাঁস বন্ধের অভিমত হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোবাইল ফোনের কথাবার্তা রেকর্ড করে ফাঁস বন্ধের অভিমত হাইকোর্টের

গ্রাহককে না জানিয়ে এবং মোবাইল ফোন কম্পানিগুলো আইনগত আবেদন ছাড়া গ্রাহকের ব্যক্তিগত কথোপকথনের অডিও-ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে পারে না বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতে বলেছেন, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অডিও-ভিডিও কথোপকথন সংগ্রহ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করছে। ওই কথোপকথনের অডিও-ভিডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস করার অভ্যাস বন্ধ হওয়া উচিত।

আদালত বলেন, আমরা এটা ভুলে যেতে পারি না যে, সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তাই এটা রক্ষা করা ফোন কম্পানি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দায়িত্ব। তাই এটা বন্ধে বিটিআরসিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। 

বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকের্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এ অভিমত দিয়েছেন। নেত্রকোনার শিশু সৈকত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামির আবেদনের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলেছেন আদালত। গত বছর ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট সংক্ষিপ্ত রায় দিলেও আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। 

রায়ে বলা হয়েছে, কোনো গ্রাহকের ফোন কললিস্ট ও কথোপকথনের রেকর্ড নিতে হলে আইন অনুযায়ী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সংস্থা/অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। কিন্তু কোনো শিকারির মতো তা সংগ্রহ করা যাবে না। আইনগত অনুমতি ছাড়া ফোন কম্পানি ফোন গ্রাহককে অবহিত না করে গ্রাহকদের যোগাযোগ সর্ম্পকতি কোনও তথ্য কাউকে সরবরাহ করতে পারে না। 

রায়ে বলা হয়েছে, সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ হাতে গোনা কয়েকটি আইন ছাড়া বিশেষ কোনো আইনে ডিজিটাল ডকুমেন্টকে প্রমান হিসেবে ব্যবহারের কোনো আইন নেই। রায়ে বলা হয়, সন্ত্রাসীরা তাদের কথাবার্তার অডিও-ভিডিও ছড়িয়ে দিতে ফেসবুক, টুইটার, স্কাইপি ব্যবহার করছে। সুতরাং এখন সময়ের দাবি, ডিজিটাল ডকুমেন্টকে সাক্ষ্য-প্রমান হিসেবে গ্রহণ করতে সাক্ষ্য আইন সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। মহান জাতীয় সংসদ সাক্ষ্য আইনকে যুগোপযোগী করতে সাক্ষ্য আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নে পদক্ষেপ নিতে পারেন। রায়ে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশ ভারত ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে আইন সংশোধন করে নিয়েছে। 

এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সৈকতকে(৭) হত্যার ঘটনায় তার পিতা মো. সিদ্দিকুর রহমান নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানায় ২০১০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ওই বছরের ৩১ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার শেষে ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ছাত্র অলি আহম্মদকে মৃত্যুদণ্ড এবং সবুজ মিয়া ও তাপস সাহাকে যাবজ্জীবন দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। 

মামলার আরেক আসামি আনিছ মিয়া শিশু হওয়ায় তাকে ১০ বছরের সাজা দেয় একই আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করে এবং আইনানুযায়ী শিশুর অপরাধের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হতে পারে কিনা না এ নিয়ে আইনগত প্রশ্ন তুলে রায় বাতিল চেয়ে পৃথক আবেদন করা হয়। এ অবস্থায় তিনজন বিচারপতিকে নিয়ে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়। এই আদালত ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট সংক্ষিপ্ত রায় দেন। রায়ে অলি আহম্মদ ও সবুজ মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা