kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাংলাদেশে টিকার ট্রায়াল নাও করতে পারে চীনা কম্পানি সিনোভ্যাক

তৌফিক মারুফ   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৮:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশে টিকার ট্রায়াল নাও করতে পারে চীনা কম্পানি সিনোভ্যাক

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল কার্যক্রমে যেন ভাটার টান লেগেছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ চাওয়া নিয়ে সিনোভ্যাকের ট্রায়াল কার্যক্রম শুরুতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। গ্লোব বায়োটেকের টিকা গবেষণা কার্যক্রমেও অগ্রগতির খবর নেই। এই অবস্থায় দেশে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল পরিচালনা নিয়ে সংশয়ে বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এক বিশেষজ্ঞ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিভিন্ন দেশে টিকার ট্রায়াল এগিয়ে চলেছে। দেশে করোনার সংক্রমণও ক্রমেই নিচের দিকে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এখানে ট্রায়ালের উপযোগিতা থাকে কি না, তা নিয়ে ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবার সিনোভ্যাক কম্পানি তাদের আগের শর্ত থেকে সরে এসে বাংলাদেশের কাছে আর্থিক অংশীদারি চাইছে। এ নিয়ে এখানে তাদের ট্রায়ালই ঝুলে গেছে। এ ছাড়া অন্য দেশগুলোতে চলমান চীনের টিকার ট্রায়াল থেকে প্রয়োজনীয় মাত্রায় সাফল্য পাওয়া গেলে বাংলাদেশে আর ট্রায়াল নাও করতে পারে চীনের কম্পানি। এ ক্ষেত্রে চীনের টিকার বাংলাদেশে ট্রায়াল নিয়ে নানামুখী হতাশাজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

অবশ্য স্বাস্থ্যসচিব (সেবা) মো. আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী সপ্তাহ নাগাদ সিনোভ্যাকের একটি সার্ভে টিম পাঠানোর কথা রয়েছে। তারা এসে ঘুরে যাওয়ার পর হয়তো চূড়ান্তভাবে কাজ শুরু হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘যত দূর শুনেছি, চীনের সিনোভ্যাক কম্পানি তাদের আগের জায়গা থেকে সরে এসে এখন ট্রায়ালে বাংলাদেশের আর্থিক অংশীদারি চাচ্ছে। এটি যুক্তিযুক্ত হয় না। আমরা তাদের ট্রায়ালের সুযোগ করে দিচ্ছি, সেটিই বড় কথা। এসব নিয়েই হয়তো তাদের ট্রায়ালটি ঝুলে গেছে।’

সংক্রমণ কমে গেলে ট্রায়ালের উপগোগিতা কমে যাবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, একদিক থেকে কিছুটা তো কমবেই। তবে চাইলে যেকোনো সময়ই টিকার ট্রায়াল করা যায়।

আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) টিকাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. কে এম জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে রেখেছি। এখন চীন থেকে টিকা আসার অপেক্ষায় আছি। আমাদের কর্তৃপক্ষও চীনের কম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সরকারের জায়গা থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন কারণে দেরি হচ্ছে বুঝতে পারছি না। শুনেছি, তারা পার্টনারশিপ চায়।’

ওই বিজ্ঞানী বলেন, ‘আমরা আগের সাতটি হাসপাতাল থেকে দুটি বাদ দিয়ে নতুন দুটি হাসপাতাল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলাচ্ছি। কারণ হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট ও ঢাকা মহানগর হাসপাতাল সরকার কভিডকেন্দ্রিক বিশেষায়িত সেবা থেকে বাদ দিয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনা টিকা পেতে সরকার গত মাস থেকে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। যোগাযোগ স্থাপন করেছে কমপক্ষে পাঁচটি কম্পানির সঙ্গে। অন্যদিকে দেশেই চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক কম্পানির করোনার টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ নিয়ে আশার আলো দেখিয়েছিল আইসিডিডিআরবি। আরো তিন কম্পানি দেশে তাদের টিকার ট্রায়ালের সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছে।

অপরদিকে দেশের ওষুধ কম্পানি গ্লোব বায়োটেকে নিজস্ব একটি করোনার টিকা উদ্ভাবন নিয়ে দেখানো হয়েছিল বড় আশা। তবে হঠাৎ করেই চীনের টিকার ট্রায়াল আর গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবনপ্রক্রিয়া থমকে গেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে থেকেই আইসিডিডিআরবি জানাচ্ছিল চীনের টিকার নমুনা শিগগিরই দেশে আসবে। গ্লোব বায়োটেক থেকেও বারবার বলা হচ্ছিল, সপ্তাহের মধ্যেই তারা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের প্রথম পর্বের ট্রায়ালের সাফল্যের জানান দেবে; কিন্তু দুটির একটিও আর এগোয়নি। সরকারের তরফ থেকেও নতুন কোনো অগ্রগতির খবর নেই।

স্বাস্থ্যসচিব (সেবা) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নতুন যে কম্পানিগুলো ট্রায়ালের জন্য আবেদন করেছে, সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে এলেই চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা