kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা

টিআইবির পুরস্কার পেলেন কালের কণ্ঠের আরিফসহ চার সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:১০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টিআইবির পুরস্কার পেলেন কালের কণ্ঠের আরিফসহ চার সাংবাদিক

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি’র) দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার পেয়েছেন কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার আরিফুর রহমান। জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে তিনি এই পুরস্কার অর্জন করেন। 

এছাড়া আঞ্চলিক ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে টিআইবির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন যশোরের ‘দৈনিক গ্রামের কাগজ’- পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফয়সাল ইসলাম এবং চট্টগ্রামের সাপ্তাহিক ‘চাটগাঁর বাণী’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম। টেলিভিশন (প্রতিবেদন) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার সফিক শাহিন। আর টেলিভিশন (প্রামাণ্য অনুষ্ঠান) বিভাগে বিজয়ী হয়েছে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’। 

আজ সোমবার আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২০ উদযাপনের অংশ হিসেবে টিআইবি ‘তথ্য অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে। মুক্ত আলোচনার পরপরই চার বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার পাওয়া প্রতিবেদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। 

জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্র বিভাগে বিজয়ীদের প্রত্যেককে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকার চেক দেওয়া হবে। আর বিজয়ী প্রামাণ্য অনুষ্ঠানকে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক দেওয়া হবে। 

এবছর বিচারকমণ্ডলীর বিবেচনায় জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পে দুর্নীতি বিষয়ক জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে মানসম্মত কোনো প্রতিবেদন না পাওয়ায় এই বিভাগে কোনো পুরস্কার দেওয়া হয়নি। 

গত ২২ বছর ধরে টিআইবি ‘দুর্নীতি বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার’ দিয়ে আসছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংবাদিক, গবেষক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের  অধ্যাপক ড. গীতিআরা নাসরিন, বৈশাখী টেলিভিশনের প্ল্যানিং কনস্যালটেন্ট জুলফিকার আলি মাণিক এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মন্জুর-ই-আলম। 

জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে টিআইবির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারে বিজয়ী হওয়া ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার আরিফুর রহমান ‘এডিপিতে শর্ষেয় ভূত’ শিরোনামে গত বছর ১৪ থেকে ১৭ অক্টোবর ধারাবাহিকভাবে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত চার পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য এবছর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি তার প্রতিবেদনে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্ম তদারকি ও  দেখভালের জন্য সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থা ‘বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ’ (আইএমইডি)-এর নজিরবিহীন লুটপাটের মহাযজ্ঞচিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া যেই পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ শুমারির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এডিপির প্রকল্পগুলো নেওয়া হয় তাদের দুর্নীতি-গাফলতির চিত্রও তুলে ধরেন ওই প্রতিবেদনে।

আজ অনলাইন আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে পারছে না মন্তব্য করে অধ্যাপক আফসান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম এখন নিজেকে সংবাদমাধ্যম হিসেবে না ভেবে উপরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভাবছে। তারা অনুসন্ধানী না হয়ে এখন হেডলাইন নির্ভর হয়ে গেছে। 

তাঁর মতে, গণমাধ্যমকর্মীদের সফল হওয়ার চেষ্টা নেই, তারা প্রস্তুত নয়। এই ধারা থেকে বের হতে না পারলে গণমাধ্যম মুক্ত হতে পারবে না, গণমাধ্যমকর্মীরাও তাদের দায়িত্বপালনে সফল হবে না। 

অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমই গতানুগতিক উল্লেখ করে ড. গীতিআরা নাসরিন বলেন, গণমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা কতটা পালন করতে পারছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সব মিডিয়া একই ধরনের তথ্য প্রদান করছে। একধরনের ‘সহমত ভাই’ সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে। জনগণ ভাবতে পারছে না যে সাংবাদিকরা তাদের পাশে আছে। প্রচলিত কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে এ ধারা থেকে বের হতে না পারলে গণমাধ্যমের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন এবং আশা তৈরি সম্ভব হবে না। 

সাংবাদিক জুলফিকার মানিক বলেন, সাংবাদিকতায় বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় চাপ আছে, ছিলো এবং চাপ থাকবেই। এর মধ্য দিয়েই সততা এবং সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। দেশের রাজনীতি যতটুকু নষ্ট হয়েছে সাংবাদিকতাও ততটুকুই নষ্ট হয়েছে। আবার সাংবাদিকতা যতটুকু নষ্ট হয়েছে রাজনীতিও ঠিক ততটা নষ্ট হয়েছে। সাংবাদিকতায় অপশক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির অনৈক্য প্রকট। তাই শুভশক্তির ঐক্য হলেই সাংবাদিকতার অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শক্তির মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানানো গেলেও এই আইনের বাস্তবায়নে সরকারের একাংশের মানসিকতা হলো- ‘তথ্য হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি’;  এর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে এবং সরকার যেভাবে যতটুকু তথ্য প্রকাশ করতে চাইবে ততটুকুই প্রকাশিত হবে। 

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। গণমাধ্যমের ওপর এই চাপ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত; বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অপ্রতিরোধ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যেটি আতœঘাতিমূলক এবং বুমেরাং হতে বাধ্য।

টিআইবির দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২০ ষোষণায় জানানো হয়- এবছর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারের জন্য সর্বমোট ৪৯টি প্রতিবেদন জমা পড়েছে। বিচারকদের যাচাই বাছাই শেষে প্রিন্ট মিডিয়া- জাতীয় ও আঞ্চলিক ক্যাটাগরি এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া- প্রতিবেদন ও প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ক্যাটাগরিতে মোট চারজন সাংবাদিক এবং একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানকে এবছর পুরস্কৃত করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা