kalerkantho

রবিবার। ১৬ কার্তিক ১৪২৭ । ১ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মানববন্ধনে বক্তারা

করোনার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নারীর প্রতি নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নারীর প্রতি নির্যাতন

দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতির চেয়েও নারীর প্রতি নির্যাতন বেশি ভয়াবহতা ধারণ করেছে। সাভারের নীলা রায় হত্যা, খাগড়াছড়ির প্রতিবন্ধী আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণ এবং সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ সেই ঘটনার প্রতিচ্ছবি মাত্র। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সাভারে স্কুলছাত্রী হত্যা, খাগড়াছড়িতে আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণ এবং সিলেটে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এই মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নারীর প্রতি নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় আজ রবিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৫৭টি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। ‘নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, নারী হত্যা, ধর্ষণ বন্ধ কর’ শীর্ষক স্লোগানে দেশের ৫৭ জেলার পাশাপাশি রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেও মানববন্ধনের আয়োজন করে মহিলা পরিষদ।

মানববন্ধনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘বর্তমানে করোনার সময়ে যখন মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা করছে তখন নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি সমগ্র সমাজকে আতংকিত করে তুলেছে। দেশের সমগ্র দিকে প্রতিটি স্তরের নারী ও শিশুরা হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এমতাবস্থায় ঘটনার সাথে যুক্ত অপরাধীদের পারিবারিক শিক্ষা, সংস্কার, মনোসামসাজিক আচরণত দিক আজ প্রশ্নবিদ্ধ।’

এ সময় ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়ে চলা নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধে তিনি কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।

পরিষদের সহ-সভাপতি মাখদুমা নার্গিস রত্না বলেন, ‘করোনার ভয়াবহতার চেয়ে নারীর প্রতি নির্যাতন ও নিরাপত্তহীনতার ভয় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীর বিচার লক্ষ্য করা যায় না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কাছে জনগণ আজ অবরুদ্ধ। ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনের দিক থেকে কেবল অপরাধীকে বহিষ্কার করতে দেখা যায়, এটি যথেষ্ট নয়।’

সংগঠনটির লিগ্যাল এইড ও লবি পরিচালক অ্যাড. মাকছুদা আক্তার লাইলী বলেন, ‘করোনা মহামারীতে সমগ্র দেশ ধর্ষণের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় সহিংসতার শিকার নারীদের সহায়তা দিতে সংগঠন নিয়মিত কর্মসূচি চলমান রেখেছে। সহিংসতা মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এতটাই বেড়ে দাড়িয়েছে যে করোনার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে আজ সকলকে সম্মিলিতভাবে রাস্তায় দাড়াতে বাধ্য করেছে।’

মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বৃদ্ধির ঘটনা রোধ করতে হলে প্রশাসন, রাজনীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সমাজবিরোধী চক্র গড়ে এটিকে প্রতিহত করতে হবে। এই সিন্ডিকেট দূর না হলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকবে। নারীর প্রতি আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সর্বস্তরে নারী সহিংসতার শিকার হচ্ছে।’ এ সময় নারীর প্রতি সহিংসতার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে করা, জবানবন্দি নেওয়ার পদ্ধতি বদলানো, ঘটনা অন্যখাতে প্রবাহিত করতে অপরাধী সনাক্তে নাটকীয়তা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস, সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মানববন্ধন কাল : এদিকে ধর্ষণ, হতা নির্যাতনসহ নারীর প্রতি বর্ধমান সংহিসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কাল সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর মিরপুর রোডে আসকের এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

এর আগে গত শনিবার আসকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খাগড়াছড়িতে চাকমা সমপ্রদায়ের এক নারীকে ধর্ষণ এবং সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র। পাশাপাশি দুই ঘটনায় দায়ীদের দ্রুততার সাথে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবিও জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সামপ্রতিক সময়ে সারাদেশে ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার নানা ঘটনা চরম উদ্বেগ আর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। পার্বত্য এলাকায় ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধের ঘটনা প্রায়শই ঘটে চলেছে। গত কিছু দিনে বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। পূর্বের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধী শাস্তি না পাওয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলছে। আসক এসব ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্বত্য এলাকায় নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা