kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পাউবোর তৃতীয় শ্রেণির অপারেট মাহবুবের চার-পাঁচটি বাড়ি, কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাউবোর তৃতীয় শ্রেণির অপারেট মাহবুবের চার-পাঁচটি বাড়ি, কোটি টাকা

জাতীয় পানি উন্নয়ন শ্রমিক-কর্মচারী লীগের (৮৮) সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুব আলম চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে প্রবেশ করেন; যদিও সংগঠনটির নিবন্ধন নেই। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তাঁর বাবা। কর্মচারীদের নেতা হওয়ার সুবাদে তিনি এখন একক আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন মতিঝিলের ওয়াপদা (পাউবো) ভবনসহ আশপাশে এই দপ্তরের যতগুলো শাখা আছে সব কটির কর্মচারীদের মধ্যে।

অভিযোগ রয়েছে, তাঁর কথার বাইরে কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ-বদলিসহ নানা ধরনের কাজের মাধ্যমে মাহবুব আলম নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন দিনে দিনে। এরই মধ্যে রাজধানীতে চার থেকে পাঁচটি বহুতল ভবনের মালিক হয়েছেন তিনি। রাজধানীর মানিকনগরে বিদ্যুৎ টাওয়ারের পাশে রয়েছে তাঁর সাততলা একটি ভবন। মিরহাজিরবাগে রয়েছে চারতলা আরেকটি ভবন। হাসনাবাদ এলাকায়ও একটি ভবনের মালিক তিনি। এ ছাড়া নামে-বেনামে পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে করেছেন বিভিন্ন সম্পত্তি। চলেন দামি গাড়িতে। রয়েছে বেনামে অনেক ব্যবসা। সংগঠনের সাবেক সভাপতি বহুল আলোচিত আবুল কালাম মোল্লার মৃত্যুর পর কপাল খুলে যায় মাহবুব আলমের।

বর্তমানে পাউবোর তৃতীয় শ্রেণির ডুপ্লিকেটিং অপারেটর পদে কর্মরত প্রভাবশালী মাহবুব আলম তদবির বাণিজ্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি-বাড়ি নয়, মাহবুব আলম তাঁর আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে রীতিমতো পাউবো দপ্তর ও যাত্রাবাড়ী কলোনির ভেতরে বেপরোয়া প্রভাব বিস্তার করে আছেন। তিনি ছাড়াও একই দপ্তরে বর্তমানে তাঁর আরো এক ভাই ও দুই ভাতিজাসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয় চাকরি করছেন।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, মাহবুব আলমের বাবা চাকরি করতেন পাউবোতে। সেই সূত্রে তাঁর দুই ভাইয়ের চাকরি হয়। তাঁদের সুবাদে তিনিও চাকরি পান এই দপ্তরে। যাত্রাবাড়ী ওয়াপদা কলোনি নামে পরিচিত পাউবোর কলোনিতে তাঁর নিজের নামে একটি সরকারি বাসা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে তিনি থাকেন না। সেটি ভাড়া দিয়েছেন। নিজে থাকেন বাইরে অন্য জায়গায়। একইভাবে তাঁর এক ভাইয়ের নামে একটি বাসা বরাদ্দ আছে। তাঁর দুই ভাতিজার নামেও আছে। তুষার নামের মাহবুব আলমের এক ভাতিজা পাউবোর নৌযানের সেইলর পদে কর্মরত; যদিও তিনি সব সময় থাকেন প্রধান কার্যালয়ে। কলোনির ১ নম্বর ভবনের পূর্ব পাশের বাসায় থাকেন তিনি। কলোনিতে অবৈধভাবে গড়ে তুলেছেন গবাদি পশুর খামার। সরকারি পুকুরে জোর করে মাছ চাষ করে পুকুরটি নিজের দখলে রেখেছেন। সেই মাছ প্রকাশ্যেই বিক্রি করেন। নিজের সুবিধামতো বিক্রি করেন সরকারি গাছগাছালি। তাঁর নানা অপকর্ম নিয়ে একটি তদন্ত হলেও সেটি অদৃশ্য কারণে একপর্যায়ে চাপা পড়ে যায়।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহবুব আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সংগঠনের সভাপতি পদে আছি সাত মাস ধরে। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই নানা অভিযোগ তোলে তাদের নিজেদের স্বার্থে। অনেক ধরনের তদন্ত হয়েছে আমাকে নিয়ে। কিন্তু আমি কোনো দুর্নীতি করি না। যদি আমরা দুর্নীতি করতাম, তাহলে এত ছোট পদে চাকরি করা লাগত না।’

বাড়ি-গাড়ির মালিক কিভাবে হয়েছেন জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, ‘আমি চাকরি পাওয়ার আগে কিছুদিন কুয়েতে ছিলাম। তখন কিছু টাকা-পয়সা ছিল। এ ছাড়া আমার শ্বশুর অনেক ধনী। সাততলা একটি ভবন করেছি শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে। চারতলা ভবনটি করে দিয়েছে আমার সম্বন্ধী।’

আত্মীয়-স্বজন এবং অন্যদের চাকরি দেওয়ার বিষয়ে মাহবুব আলম বলেন, ‘কাউকে চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। তারা নিজেরাই চাকরি পেয়েছে। তবে সম্প্রতি দৈনিক ভিত্তিতে আমার এক ভাইয়ের ছেলেসহ কয়েকজনকে কাজ দিয়েছি একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে। এই ছেলেগুলোকে এই চাকরি না দিলে ওরা হয়তো সামাজিকভাবে বিপদগ্রস্ত হতো। মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি তাদের উপকার করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা