kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কালের কণ্ঠ-কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা

প্রাণিসম্পদ খাত উন্নয়নে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০২:৩৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রাণিসম্পদ খাত উন্নয়নে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ

করোনা মহামারির মধ্যে অন্য খাতগুলোর মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রাণিসম্পদ, ডেইরি ও মৎস্য খাত। সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় পড়েছিল নেতিবাচক প্রভাব। তবে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সেই ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রাণিসম্পদ, ডেইরি ও মৎস্য খাত উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও। ফলে বাংলাদেশ এখন মাংস উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। আর ‘সমষ্টি’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় পশুপালন, মৎস্য ও ডেইরি খাতের দক্ষ জনবল সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় অর্থ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ। এই খাতটির উন্নয়নে অংশীদারি সৃষ্টি ছাড়াও আরো সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠ-কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় এসব মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক আমানুর রহমানের সঞ্চালনায় ‘মহামারি পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও প্রাণিসম্পদ খাত পুনরুদ্ধার’ বিষয়ে আলোচনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।  

স্বাগত বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘গ্রামীণ অবকাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, একটি পরিবার কয়েকটি হাঁস-মুরগি বা গবাদি পশু পালন এবং মাছ চাষের মাধ্যমে একটু বাড়তি আয় করার চেষ্টা করছে। একাধারে এটি যেমন তার নিজস্ব আয়ের উৎস, সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে। গত ১০ বছরে গরুর খামার, ছাগলের খামারের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এ খাতটির পরিচর্যা খুব জরুরি। এ জায়গাগুলো থেকে উত্তরণে কেয়ার যেভাবে কাজ করছে, বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের তা নিয়ে ভাবা উচিত। বিশেষ করে সরকারের একটি বড় ভূমিকা এখানে আমরা আশা করি।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আব্দুল জব্বার শিকদার বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ অবস্থায় আসতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও বিভিন্ন এনজিওসহ সবার সহযোগিতা রয়েছে। আমাদের দেশে এ বছর দুধ উৎপাদিত হয়েছে ১০৬ কোটি মেট্রিক টন, ডিম হয়েছে এক হাজার ৭৩৪ কোটি, যেটা স্বাধীনতার পর ছিল মাত্র ১১৫ কোটি। সুতরাং এ খাতে সরকারের সুদৃষ্টি আছে বলেই এত উন্নতি এসেছে।’

বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সিনিয়র প্রগ্রাম ম্যানেজার সোহেল ইবনে আলী বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড সরকার প্রায় ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। আমাদের এ সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতেও রাখতে চাই। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও করোনা মহামারির কারণে প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এ খাতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বড় ধরনের সরকারি তহবিলের প্রয়োজন।’

কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রমেশ সিং বলেন, ‘করোনা মহামারি এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ করোনার দ্বিতীয় ধাপ (সেকেন্ড ওয়েভ) মোকাবেলা করছে। বাংলাদেশও করোনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং এই মহামারি মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। কিছুদিন পর এই মহামারি শেষ হয়ে যাবে; কিন্তু এই মহামারির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য এখনই কার্যক্রম শুরু করা উচিত। এই মহামারির ফলে আমরা শহর ও গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন ভারসাম্য ও পারস্পরিক নির্ভরতার গুরুত্ব দেখেছি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গ্রামীণ কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে, গ্রামীণ উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার বলেন, ‘করোনার কারণে ই-কমার্স খাতে একটি বড় ফোকাস এসেছে। আমাদের ই-ক্যাবের এক হাজার ২০০ সদস্যের মধ্যে ৮৫ শতাংশই ছিল ফ্যাশন, জুয়েলারি, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ অন্যান্য খাতের প্রতিষ্ঠান। প্রথম দিকে মোট ৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো নিয়ে কাজ করছিল। কিন্তু করোনার ফলে চলতি বছরের আগস্টে এসে সেই সংখ্যা ২২ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত প্রায় আট হাজার কোটি টাকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ একটি বড় সম্ভাবনাময় খাত। গত কোরবানির ঈদের সময় ডিজিটাল হাট থেকে প্রায় ২৭ হাজার গরু বেচাকেনা হয়েছে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের’ প্রধান কারিগরি সমন্বয়ক ড. মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের জন্য এক কোটির বেশি দুধের গাভি, দুই কোটির বেশি গবাদি পশুর প্রয়োজন নেই। একটি গবাদি পশু থেকে এক হাজার কেজি মাংস পাওয়া গেলে ১০০ কেজি ওজনের ১০টি পশু পালনের দরকার নেই। একইভাবে এক গাভি থেকে ৪০ লিটার দুধ পাওয়া গেলে, পাঁচ লিটারের আটটি গাভি পালনের প্রয়োজন নেই।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিপুষ্টি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘খামারিরা মনে করে দুধের দাম বাড়িয়ে দিলেই তাদের সব সমস্যার সমাধান হবে। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। সমাধান হচ্ছে নিজেদের মধ্যে এবং সব অংশীজনের সমন্বয়ের মাধ্যমে। দুধের উৎপাদন খরচ আমাদের দেশে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। দুধের দামও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি, যেটা আমাদের জন্য বড় পীড়াদায়ক।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. এ বি এম খালিদুজ্জামান বলেন, ‘করোনার সময় বহু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পেয়েছিলাম আমরা। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে প্রস্তুত ছিল সরকার। সরকারের পদক্ষেপের কারণেই লকডাউনের মধ্যেও আমাদের এই সেক্টরের ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছি।’

ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহনাজ আক্তার শাহীন বলেন, ‘অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে ব্যাংকের ভূমিকা অপরিসীম। এর জন্য আমাদের কৃষকের কাছে, প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছতে হবে। নেটওয়ার্ক সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা (ব্যাংকিং সেক্টর) সবাই সে জায়গায় যেতে পারছি না। ব্যাংক এশিয়াসহ বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়ে এসেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা