kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নারায়ণগঞ্জে ‘নিহত’ স্কুলছাত্রী ফেরত আসার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৮:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জে ‘নিহত’ স্কুলছাত্রী ফেরত আসার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জে ‘নিহত’ স্কুলছাত্রী জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারায়ণগঞ্জের মূখ্য মহানগর হাকিমকে এ বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে হাইকোর্টে এ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তদন্তের সময় আসামি, বাদি, তদন্ত কর্মকর্তাসহ সকলের সাক্ষ্য নিতে বলা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আসামি কোনো আইনজীবীকে রাখতে চাইলে তা পারবে, এমনকি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীও উপস্থিত থাকতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়েছে। এবিষয়ে আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। 

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেবেন। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার সময় আইনজীবীর উপস্থিতি এবং আসামির বক্তব্য অডিও-ভিডিও রেকর্ড করার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের ৫ আইনজীবীর করা এক আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত। আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

এদিকে আজ শুনানিকালে হাইকোর্ট রিট আবেদনকারী আইনজীবীর কাছে জানতে চান, হাইকোর্ট জাতীয় সংসদকে আইন সংশোধন বা প্রণয়নের আদেশ দিতে পারেন কিনা। 

জবাবে আইনজীবী বলেন, আবেদনের কোথাও আইন সংশোধনের নির্দেশনা চাওয়া হয়নি। আর আদালত জাতীয় সংসদকে এই নির্দেশনা দিতেও পারে না। তবে আদালত আইনের ভেতরে থেকেই একটি গাইডলাইন করে দিতে পারেন। 

তিনি বলেন, ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ও ১৬৭ নম্বর ধারায় কি করা যাবে সেবিষয়ে সব বলা আছে। এরপরও ব্লাস্টের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এবিষয়ে গাইডলাইন ঠিক করে দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার কোথাও বলা নেই যে অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং করা যাবে না। যেখানে বিধিনিষেধ নেই সেখানে আদালত আইনের ভেতরে থেকেই গাইডলাইন করে দিতে পারেন। আইনজীবী উপস্থিত থাকলে আইনের কোনো ব্যপ্তয় হবে না। 

এসময় আদালত বলেন, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে যেসব খবর দেখি তাতে মনে হচ্ছে, আইনটি সংশোধন বা পরিমার্জন হওয়া প্রয়োজন। তবে এই মুহুর্তে বিষয়টি সংশোধনের প্রয়োজন যদি মনে না করেন আইন প্রনেতারা, তাহলে কি আমার করতে পারি? 

জবাবে শিশির মনির বলেন, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর ২০০৯ সালে ভারত সরকার ১৬৪ ধারার জবানবন্দী গ্রহণের সময় আইনজীবীর উপস্থিতি ও অডিও-ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। 

এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চান। জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, আইন যুগোপযোগী করার বিষয়ে কি করা যায় সেজন্য আইন কমিশন আছে। আদালত চাইলে এবিষয়ে আইন কমিশনের প্রতি নির্দেশনা দিতে পারেন।

এসময় আদালত বলেন, আইন কমিশনের সুপারিশ কি সরকার মানে? এনিয়েও তো পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট দেখি। এরপর আদালত আদেশ দেন।

গত ৪ জুলাই ৫ম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ স্কুল ছাত্রীর পিতা গত ৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব এবং খলিল নামে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। 

স্বীকারোক্তিতে তারা বলে যে, ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২৩ আগস্ট ওই ছাত্রীকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থী বলছে, সে ইকবাল নামক একজনকে বিয়ে করে তার সঙ্গে সংসার করছে। এনিয়ে ‘ধর্ষণের পর নদীতে লাশ ফেলে দেয়া স্কুল ছাত্রীর ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে গত ২৪ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ২৫ আগস্ট ৫ আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন, মো.জোবায়েদুর রহমান, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. আল রেজা আমির এবং মো. মিসবাহ উদ্দিন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা