kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দক্ষিণ জনপদে ভরসা টেলিমেডিসিন

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০২:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষিণ জনপদে ভরসা টেলিমেডিসিন

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে যেতে যেমন সাহস পেতেন না, সাধারণ মানুষও ঘর থেকে বাইরে যেতে ভয় পেত। এতে চিকিৎসক ও সেবাগ্রহীতারা পড়ে সংকটে। আর এই সংকটে দেশের দক্ষিণ জনপদ বরিশালে চিকিৎসক-রোগীদের ভরসার স্থল হয়ে ওঠে টেলিমেডিসিন সেবা, যা এখন মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম অনুষঙ্গ। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষও ঢাকা কিংবা বরিশালের চিকিৎসকদের সঙ্গে মুহূর্তে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যায়। কখনো ভিডিও কল, কখনো ফোনে রোগীরা তাদের অবস্থা জানায় চিকিৎসকদের। চিকিৎসকরাও রোগীদের পরামর্শ দেন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। মানুষ বিনা মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পাচ্ছে এভাবেই। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পরও এখনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চালু রেখেছেন এই টেলিমেডিসিন সেবা।

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন,  ‘গত মার্চে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর দেশজুড়ে হাসপাতালে, চিকিৎসকদের চেম্বারে গিয়ে চিকিৎসাসেবা পেতে সংকট তৈরি হয়। বরিশালও এর বাইরে নয়। রীতিমতো চিকিৎসাসেবা বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা টেলিফোন, ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখেন। রোগীরা দিনে-রাতে, যখনই ফোন করেছেন আমরা ধরেছি। তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি। এই দুর্যোগের সময়ে রোগীদের সেবা দিতে পেরে আমরা তৃপ্ত।’ 

বরিশালের সংবাদকর্মী তন্ময় দাস বলেন, ‘গত জুন মাসের প্রথম দিকে আমরা পরিবারের চারজন করোনায় আক্রান্ত হই। পুরো পরিবারের চিকিৎসাই বিনা মূল্যে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে গ্রহণ করে সুস্থ হই। বাবার উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা দেখা দিলে মোবাইলে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিওরোলজি বিষেশজ্ঞ অমিতাভ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরীক্ষার রিপোর্ট হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর কাছে পাঠালে তিনি ব্যবস্থাপত্র দেন। বর্তমানে বাবা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও শেবাচিম হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ভাস্কর সাহা বলেন, ‘মোবাইল ফোনে, ম্যাসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপে রোগীর উপসর্গ শুনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। রোগীরা এতে উপকৃত হন। আর যদি মনে হয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন, তবে রিপোর্টগুলো হোয়াটসঅ্যাপ বা ম্যাসেঞ্জারে পাঠাতে বলি। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিনা মূল্যে সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করেছি।’

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসু দেব কুমার দাস বলেন, ‘করোনাকালে বেশির ভাগ রোগীকে হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকদের চেম্বারে যেতে হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা পর্যায়ের জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে হটলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া টেলিমেডিসিন কিংবা অনলাইনে চিকিৎসাসেবা চালুর পর রোগীরা ঘরে বসেই চিকিৎসা পেয়েছেন। এতে রোগীরা উপকৃত হয়েছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা