kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইউএনওর ওপর হামলার মামলা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

পরিবারের দাবি রবিউলকে ফাঁসানো হচ্ছে

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউএনওর ওপর হামলার মামলা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার মামলায় দ্রুত অভিযোগপত্র দিতে ব্যস্ত পুলিশ। তারা বলছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুততার সঙ্গে ত্রুটিমুক্ত অভিযোগপত্র দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে হামলার ওই ঘটনায় ইউএনওর বাসার সাবেক মালি (সাময়িক বহিষ্কৃত) রবিউল ইসলাম একাই জড়িত—এমন তথ্যে পুলিশের তদন্ত স্থির থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্দোষ রবিউলকে ফাঁসানো হচ্ছে। এই হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের বিষয়গুলো ঝুলে আছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টিতে নজর রাখছেন। সে জন্য দ্রুত অভিযোগপত্র দিতে গিয়ে যাতে কোনো ত্রুটি থেকে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, মামলাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজের প্রধান অংশগুলো আলাদা করে এরই মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আলামতসহ যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে তথ্যপুঞ্জ করা হয়েছে। মামলাটির বিষয়ে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা ত্রুটি-বিচ্যুতি না থাকে, সে জন্য চৌকস কর্মকর্তারা কাজ করছেন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আইজিপির একজন বিশেষ কর্মকর্তা সার্বিক বিষয় তদারকিতে রয়েছেন।

এদিকে হামলার ঘটনায় রবিউল একাই জড়িত—এমন তথ্যে তদন্তের লক্ষ্য স্থির থাকলেও গ্রেপ্তার অন্যদের বিষয়টি ঝুলে আছে। এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির ওসি ইমাম জাফর বলেন, ‘রবিউল ছাড়াও অন্য যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না মিললে অভিযোগপত্রে নাম থাকবে না।’

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় ঘটনার সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের একজন ক্রিকেট জুয়াড়ি খোকন আলী জানিয়েছেন, রবিউল তাঁকে ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন। এই টাকা রবিউল ঘটনার রাতে ইউএনওর ব্যাগ থেকে নিয়েছিলেন। অন্য দুই সাক্ষী শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার সাইকেল গ্যারেজের আইয়ুব আলী ও চৌকিদার মুরাদ হোসেন। সাক্ষ্যে তাঁরা বলেছেন, ঘটনার দিন বিকেলে রবিউলকে দেখেছেন এবং রবিউল ওই গ্যারেজে তাঁর সাইকেল রেখে বাসযোগে ঘোড়াঘাট গিয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেওয়া অন্য দুজন হলেন ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর বাজারের মুদি দোকানি সিরাজ ও অলিউল্লাহ। তাঁরা জানিয়েছেন, রবিউলকে তাঁরা ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওসমানপুর বাজারে দেখেছেন। ওই দিন রাত ১১টা পর্যন্ত রবিউল বাজারে ছিলেন এবং কেন তিনি এখানে আছেন জিজ্ঞেস করলে রবিউল জানিয়েছিলেন, ইউএনও অফিসে তাঁর কাজ আছে।

অন্যদিকে পরিবারের দাবি, রবিউলকে ফাঁসানো হচ্ছে। নির্যাতন চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। রবিউলের মা রহিমা বেগম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে এ কাজ করেনি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা।’ রবিউলের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার রাতে ৯টার সময় রবিউল মায়ের সঙ্গে ভাত খেয়েছে। ফজরের নামাজের পরপরই মাঠে ছোট ভাইয়ের সঙ্গ ঘাস বাছতে গেছে। অথচ আমাদের বাড়ি থেকে ইউএনও অফিসের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। সে ওই হামলায় কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারে না। আর যে হাতুড়ির কথা বলা হচ্ছে তা রবিউলের শ্বশুরের। তিনি পাওয়ারটিলার মেকানিক। তাঁর কাছ থেকে মবিল মাখা দুটি হাতুড়ি নিয়ে যায় পুলিশ। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে রবিউলের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা