kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বৈশ্বিক ডিজিটাল রাইজার প্রতিবেদন: ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ

► দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো করেছে শ্রীলঙ্কা
► সৌদি আরব, ফ্রান্স ও ফিলিপাইন শীর্ষে
► যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:৩১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বৈশ্বিক ডিজিটাল রাইজার প্রতিবেদন: ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ

বিশ্বজুড়ে এগিয়ে চলছে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও ডিজিটাল রূপান্তর। এ খাতে নীতি সহায়তা ও বিপুল বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখনো পেছনের সারিতেই বাংলাদেশের অবস্থান। সম্প্রতি ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিটাল কম্পিটিটিভনেসের ‘ডিজিটাল রাইজার রিপোর্ট’-এ এমন চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে প্রতিবেদন তৈরি করেছে ইএসসিপি বিজনেস স্কুল।

প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৪০ দেশের অবস্থান তুলনা করা হয়েছে আঞ্চলিক ভিত্তিতে। এ ছাড়া জি-৭ ও জি-২০ দেশগুলোরও আলাদা র্যাংকিং করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ডিজিটাল উত্থানে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। অর্জিত পয়েন্ট মাইনাস ৪৯। মাইনাস ১৭৩ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটি অর্জন করে প্লাস ১৩১ পয়েন্ট। প্লাস ৭১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় পাকিস্তান ও মাইনাস ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় নেপাল। দুটি মানদণ্ডের মধ্যে ইকোসিস্টেমে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ আর মাইন্ডসেটে অবস্থান তৃতীয়।

এ ছাড়া জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে প্লাস ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স, জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে প্লাস ১৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে সৌদি আরব, দ্বিতীয় ফ্রান্স, প্লাস ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ইন্দোনেশিয়া এবং প্লাস ৫২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে চীন। এই তালিকায় মাইনাস ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে পিছিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই প্রতিবেদনে দেশগুলোর গত তিন বছরের ডিজিটাল প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দেখানো হয়েছে। এতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন’ ডাটা ব্যবহার করা হয়েছে। দেশগুলোর ডিজিটাল প্রতিযোগিতা সক্ষমতা পরিমাপ করা হয়েছে দুটি ভিত্তির মাধ্যমে। একটি হচ্ছে ইকোসিস্টেম অন্যটি মাইন্ডসেট। এই দুটির অধীনে রয়েছে আরো পাঁচটি করে সূচক।

ইকোসিস্টেমের পাঁচটি সূচক হচ্ছে—ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সহজলভ্যতা, ব্যবসা শুরু করার খরচ, ব্যবসা শুরু করতে সময়, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ কতটা সহজ, স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা। মাইন্ডসেটের পাঁচটি সূচক হচ্ছে—সক্রিয় জনগণের মধ্যে ডিজিটাল দক্ষতা, যেকোনো উদ্যোগের ঝুঁকি বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি, শ্রমশক্তির বহুমুখিতা, মোবাইল-ব্রডব্যান্ড সাবস্ক্রিপশন এবং কম্পানির উদ্ভাবনী আইডিয়া গ্রহণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমরা এমন একটি প্রযুক্তি বিপ্লবের মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, থ্রিডি প্রিন্টিং, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি এখন অগ্রযাত্রার মূলে এসে দাঁড়িয়েছে। এ প্রযুক্তিগুলো বিশ্বের প্রতিটি শিল্প ও দেশকে প্রভাবিত করছে। একটি দেশের এসব পরিবর্তন ধরার সক্ষমতা ও তা কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো শুধু তাদের ভবিষ্যৎ সম্পদই তৈরি করবে না, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালী করবে। এমন বাস্তবতায় এ প্রতিবেদনে আমরা বিশ্লেষণ করেছি, ২০১৭ থেকে ২০১৯—এ তিন বছরে কিভাবে দেশগুলো তাদের ডিজিটাল প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ডিজিটাল রাইজার রিপোর্টে তিন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে, কোন ডিজিটাল রাইজার দেশগুলো এ সময়ে ভালো করেছে এবং অন্যদের তুলনায় তাদের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে কি না? কোন দেশগুলোর অবস্থান দুর্বল হয়েছে? এবং এ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?’

ইএসসিপি বিজনেস স্কুল বার্লিনের ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিটাল কম্পিটিটিভনেসের অধ্যাপক ফিলিপ মিসনার বলেন, ‘আমরা একটি ডিজিটাল বিপ্লবের মাঝামাঝিতে আছি, করোনা মহামারি তার গতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ পরিবর্তনকে সরকারগুলো কিভাবে পরিচালনা করছে ও ম্যানেজ করছে তা উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকা রাখবে আগামী দশকগুলোতে তাদের দেশ কতটা প্রতিযোগিতা সক্ষম হবে ও এগিয়ে যাবে।’

সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে সৌদি আরবের শীর্ষে থাকার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবকে ডিজিটাল ও প্রযুক্তি পাওয়ার হাউসে পরিণত করতে ২০১৮ সালে গ্রহণ করা হয় ‘আইসিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৩’। এর পাশাপাশি স্মার্ট সিটি প্রকল্প এনইওএম গ্রহণ করেছে দেশটি। যে জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার।

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্লাস ১৯০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ফিলিপাইন। দেশটির এ সাফল্যের কারণ হিসেবে মনে করা হয়, দেশটিতে একটি উদ্ভাবনী ও উদ্যোক্তা বান্ধব ইকোসিস্টেম ও সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ২০১৯ সালে ‘ইনোভেট স্টার্টআপ অ্যাক্ট’ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিতে গড়ে তোলা হয় ‘স্টার্টআপ ভেঞ্চার ফান্ড’। এসব উদ্যোগ দেশটির ডিজিটাল উত্থানকে শক্তিশালী করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব, ফ্রান্স ও ফিলিপাইন ডিজিটাল রাইজারের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে দেশগুলো ডিজিটাল। বরং গত তিন বছরে দেশগুলোর সরকার যে নীতি কার্যকর করেছে তাতে দেখা যায়, ডিজিটাল রূপান্তরে দেশগুলো শক্তিশালী ও সমন্বিতভাবে এগোচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোকে ডিজিটাল চ্যাম্পিয়ন মনে করা হলেও গবেষণায় দেখা যায়, তারা গতিশীল ডিজিটাল রাইজার নয়। এমনকি গত তিন বছরের হিসাবে ডিজিটাল উত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন। চীনের পয়েন্ট যেখানে ৫৫ সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পয়েন্ট মাইনাস ৩৩।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা