kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রী বললেন

করোনা পরিস্থিতি শীতে আরো খারাপ হতে পারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:১১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতি শীতে আরো খারাপ হতে পারে

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সদস্য এবং বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান প্রদান করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। ছবি : ফোকাস বাংলা

আসছে শীতে করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তা মোকাবেলায় এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল রবিবার ৩৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ ফান্ডে অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শীতকাল আসন্ন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে। আমাদের এই মুহূর্ত থেকেই তা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এই অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। করোনা মোকাবেলায় জাতির সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে এই আর্থিক অনুদান দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, ‘সবাই এই পরিস্থিতিতে (করোনাকাল) অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এ জন্যই আমরা এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।’

কভিড-১৯-এর অভিঘাত থেকে দেশের অর্থনীতিকে মুক্ত রাখতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাসহ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি এবং যেখানে যা প্রয়োজন তা-ই দিয়েছি। কারণ জনগণের সেবা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

দেশের যেকোনো সংকটে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) তাদের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান। ব্যাংকগুলো যাতে যথাযথভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করতে পারে, সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার জন্য বিএবিকে অনুরোধ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু ব্যাংক খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে বহুবার (ব্যাংকগুলোর) মার্জিং প্রয়োজন। তবে কোন ব্যাংক সঠিকভাবে কাজ করছে, কোনটা করছে না তা সঠিকভাবে যাচাই করা দরকার। আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন, মূল্যায়ন না করে এ লক্ষ্যে কিছুই করা হবে না।’

সরকারপ্রধান বলেন, তাঁর সরকার প্রথম বেসরকারি খাতে ব্যাংক খোলার উদ্যোগ নিয়েছে এবং তাঁরা বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন, যার ফলে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে মানুষকে ব্যাংক ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘তাই আমরা চাই, ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করবে। আপনারা যেসব যৌক্তিক দাবি আমার সামনে এনেছেন তা আমরা সব সময় বিবেচনা করেছি। ব্যাংক পরিচালনায় কোনো সমস্যা থাকলে তা আমি বিবেচনা করব।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতৃত্বে ৩৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবি ব্যাংক লিমিটেড, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক (বিডি) লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি বাণিজ্যিক ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে বড় অবদান রেখেছে। এ ছাড়া ছয়টি সংস্থা যেমন—খাদ্য মন্ত্রণালয়, ফোসা (ফরেন অফিসার্স স্পাউস অ্যাসোসিয়েশন), রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), বাংলাদেশ জুডিশিয়াল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন ও মিনিস্টার গ্রুপ এই তহবিলে অনুদান দিয়েছে। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা