kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাহরাইন-ইসরায়েল চুক্তি ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ

সালমান আল-দোসারি

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাহরাইন-ইসরায়েল চুক্তি ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ

আবুধাবি ও তেল আবিবের মধ্যে যখন কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল তখন এই ‘শান্তিচুক্তি’র ব্যাপারে আরবদের ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হচ্ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছিল ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে—দাপ্তরিক পর্যায় থেকে, জনগণের পর্যায় থেকেও।

ওই সময় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশের প্রতিক্রিয়া ছিল আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক। আর ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ছিল অকূটনৈতিক।

আমাদের মনে হয়েছে, এই ক্রোধান্বিত প্রতিক্রিয়ায় একটা বিষয় নিশ্চিত হয়েছে—সেটা হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে নিজের মতো করে শান্তির সন্ধানে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে তার যৌক্তিক ও দৃঢ় অবস্থান উপেক্ষিত ও অস্বীকৃত হওয়ার পর তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ সময়ে একই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বাহরাইনকে কেন্দ্র করে।

সমালোচনাকারীদের জানা উচিত, কারো পক্ষে সময়ের পেছন দিকে যাওয়া সম্ভব নয়। নতুন বাহরাইনি-ইসরায়েলি শান্তিচুক্তির ব্যাপারে জরাক্রান্ত প্রতিক্রিয়ায় এটাই নিশ্চিত হয় (শুধু বাহরাইনের জন্য নয়, উপসাগরীয় জনগণের জন্যও), কয়েক দশক ধরে যে সংহতি প্রদর্শন করা হচ্ছে তা আগ্রাসন, আক্রমণ ও অবমাননা ছাড়া কিছুই দেয়নি।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এটাও দেখা গেছে, শান্তি স্থাপনের একাধিক উপায় আছে। শুধু ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেটা হবে তা নয়, বরং তারাই প্রথম ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন তারা বলছে, এটা (বাহরাইন-ইসরায়েল চুক্তি) পিঠে ছুরি মারার শামিল। কারণ এটি তাদের বাসনার সঙ্গে যায় না।

২০১১ সালে বাহরাইন তার আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল। এখন তারা সেসব অতিক্রম করতে চাইছে, এখন প্রকৃত বিষয়গুলো সামনে এসেছে। সে সময়ে ইরান সেই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ছিল, অর্থ ও পরিকল্পনাসহ ছিল। আর তখন হামাসের নেতারা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উপাংশ কোনো রকমের বিব্রত না হয়ে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। বাহরাইন সব সময় ফিলিস্তিনিদের স্বার্থের পক্ষে ছিল; কিন্তু কোনো ফিলিস্তিনি সরকার পতনচেষ্টার ওই দুর্দিনে ওই উপসাগরীয় দেশটির পক্ষে ছিল না, তারা বাহরাইনের জন্য মিছিল-সমাবেশ করেনি।

কী কারণে বাহরাইন তার স্বার্থরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এবং এ অঞ্চলে তার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে শান্তি অন্বেষণের জন্য অগ্রসর হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে? বলার অপেক্ষা রাখে না, তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক, যতক্ষণ না তা ফিলিস্তিনিদের স্বার্থের বিপক্ষে যায়, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে একটা প্রয়োজন, বাস্তবতা। এই এলাকার দেশগুলোর শান্তি ও স্থিতিশীলতার অনুসন্ধানের জন্যও তা দরকারি।

আমি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত—যখন তিনি বলেন, আমিরাত বা অন্য পক্ষের অধিকার নেই ফিলিস্তিনিদের পক্ষ হয়ে কথা বলার। ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব কাউকে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে নাক গলানো বা ফিলিস্তিনিদের পক্ষ হয়ে কথার বলা অনুমোদন করে না—স্বভূমিতে তার বেধ ও ন্যায্য অধিকারের ব্যাপারে।

বাহরাইনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হওয়া উচিত। ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব কেন আমিরাতি বা বাহরাইনি জনগণের হয়ে কথা বলতে যাবে এবং তাদের স্বার্থের অনুকূল সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়াবে?

নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে; ইসরায়েল-বাহরাইন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আরব লীগের সভা আহ্বান করবে। কিন্তু এটা ভিত্তিহীন আমন্ত্রণ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ দুই দেশের সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ একটা সার্বভৌম অধিকারের বিষয় এবং এটা এমন এক ব্যাপারে যাতে না আরব লীগ, না অন্য কোনো সংস্থার নাক গলানোর অধিকার আছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তার চারপাশের আঞ্চলিক বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তাদের উচিত হবে এ বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া, একে খারিজ করা নয়। ন্যূনতম পক্ষে তাদের আক্রমণ বন্ধ করা উচিত।

বিষয়টি বোধগম্য এবং এটা বরাবরের রীতি—বাহরাইনি পতাকা এবং বাহরাইনি নেতাদের ছবি পোড়ানো হবে। বাহরাইনিদের অপমান করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করায় কোনো আপত্তি থাকবে বলে মনে হয় না।

যৌক্তিক আচরণ নয়, বরং আক্রমণাত্মক আচরণ করা হবে। সার্বভৌম সিদ্ধান্ত ও অলঙ্ঘ্য অধিকারের ওপর তা চলতে থাকবে। এরপর একদিন পরিস্থিতি থিতু হয়ে আসবে, প্রসঙ্গান্তর ঘটবে। যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে তাতে এ কথাই প্রমাণিত হয়ে থাকবে যে রাষ্ট্রগুলো কাঙ্ক্ষিত শান্তি অন্বেষণে বিলম্বিত। দশকের পর দশক তারা এমন কারণের প্রতি অনুগত থেকে সময় নষ্ট করেছে যে এটাই অন্যান্য কারণের চেয়ে তাদের বেশি ক্ষতি করেছে। 

লেখক : আশরাক আল-আওসাতের সাবেক প্রধান সম্পাদক
সূত্র : আশরাক আল-আওসাত
ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা