kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

২৫ হাজার টন পেঁয়াজ আসছে ভারত থেকে

কূটনৈতিক ও নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০২:৩৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



২৫ হাজার টন পেঁয়াজ আসছে ভারত থেকে

পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে ভারত। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, ভারতের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে শুধু বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ওই সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে জোরালো বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এই পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভারত তার অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি ঠিক রাখতে হঠাৎ করেই বিদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। আগেভাগে না জানিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনেছি যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে (পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ) খুব অনুতপ্ত। কারণ তারাও জানত না যে হঠাৎ করে এটা বন্ধ হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের একটি বোঝাপড়াও আছে যে এ ধরনের হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের জানানো প্রয়োজন। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাকি এটা (রপ্তানি বন্ধ) সম্পর্কে কিছুই জানত না।’

এর আগে গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলমও দুই দেশের অলিখিত সমঝোতার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারতীয় হাইকমিশনে এবং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্পষ্ট বলেছে, ভারতের হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত ১৫-১৬ জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে অনুরোধ করেছিল। আর যদি নিষেধাজ্ঞা দিতেই হয়, তাহলে বাংলাদেশকে যেন আগাম জানানো হয় সে কথাও হয়েছিল ওই বৈঠকে।

ঢাকার বাজারে কেজিতে দাম কমেছে ১০ টাকা
দাম বাড়ার আতঙ্কে বেশি করে পেঁয়াজ কেনার যে প্রবণতা দুই-তিন দিন আগে দেখা গিয়েছিল, তা কিছুটা থেমেছে। কারণ, গত ৪৮ ঘণ্টায় দাম আর বাড়েনি বরং কেজিতে অন্তত ১০ টাকা কমেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পেঁয়াজের ক্রেতা কমে গেছে। তাই কেনা দাম থেকে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশি পেলেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিশেষ করে আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত পচনশীল হওয়ায় এগুলো বিক্রির তাড়া বেশি।

এদিকে পেঁয়াজ বোঝাই শত শত ট্রাক হিলি ও ভোমরাসহ বিভিন্ন বন্দরে আটকে রয়েছে। এতে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে। তবে হিলি ও ভোমরা বন্দরে অপেক্ষায় থাকা ট্রাক আজ শনিবার থেকে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে বলে রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন।

এদিকে বাজারের চাহিদার কথা বিবেচনা করে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশেষ ব্যবস্থায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি। রাজধানীর ৮০টি পয়েন্টসহ দেশব্যাপী ৩২০টি ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করা হয়। তেল, চিনি, ডালের সঙ্গে ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়।

গতকাল রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার বাজার, গোপীবাগ, মানিকনগর, মুগদাসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায় দেশি (হাইব্রিড) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা। এ ছাড়া আমদানি করা বড় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। আগের দিন ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজারসহ পাইকারি বাজারগুলোতেও। গত কয়েক দিন শ্যামবাজারে যে মানের দেশি পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় কেজি বিক্রি হয়েছে গতকাল তা ৮০ টাকায় নেমেছে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৮ টাকা কেজি। আগে ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি।

টিসিবি বিক্রি : টিসিবি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, শুক্রবার সাধারণত টিসিবির পণ্য বিক্রি হয় না। কিন্তু পেঁয়াজ বাজারের উত্তাপের কারণে বিশেষ নির্দেশনায় গতকাল বিক্রি করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। আগে ২৭৫টি ট্রাকে বিক্রি করা হলেও গতকাল ছিল ৩২০টি। এর মধ্যে ঢাকায় ছিল ১০০টি। আগামীকাল রবিবার থেকে পেঁয়াজের পরিমাণও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই দিন থেকে প্রতি ট্রাকে ৩০০ কেজির পরিবর্তে ৪০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ট্রাকের সংখ্যা ৩৮০টি করার পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারে।

চলতি মাসের শেষ দিকে তুরস্ক থেকে পেঁয়াজের একটি চালান আসার কথা। সেগুলো এলে বাজারে দাম আরো কমবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে আমাদের হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক হারুন উর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার আগেই দেড় শতাধিক ট্রাক হিলি বন্দরে এসে পৌঁছে। রবিবারের আগের এই এলসি করা পেঁয়াজের ট্রাকগুলো তারা ছেড়ে দেবে বলে জানিয়েছে।

আমদানিকারক শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, শনিবার বা রবিবার ট্রাকগুলো দেশে ঢুকলেও অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজ আর খাওয়ার উপযুক্ত থাকবে না। এতে প্রতি টাকে ব্যবসায়ীদের পাঁচ-ছয় লাখ টাকা লোকসান হবে। ৪০০ ডলারে ক্রয় করা পেঁয়াজে প্রতি কেজিতে ৪২ টাকা খরচ পড়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা