kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সেখানকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জেলার উলিপুরে পানি বাড়তে থাকায় আবার বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ফের বন্যা ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ইচলী এলাকায় অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জে তিন দিন ধরে বাড়ছে যমুনার পানি। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের খবরে বিস্তারিত—

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, গতকাল ধরলা নদীর পানি বিপত্সীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরই মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী ও উলিপুর উপজেলার অর্ধশত চর প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। সদর উপজেলার সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন  আরো বৃষ্টি হতে পারে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বন্যার ধকল না কাটতেই আবার বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদ-নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক (রংপুর) জানান, তিস্তার পানি বাড়ায় গঙ্গাচড়ায় ফের বন্যা ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিন লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ইচলী এলাকায় অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙছে পূর্ব ইচলী ঈদগাহ। সেই সঙ্গে আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে ‘শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতু’র মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়কে।

শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে তিস্তার মূল প্রবাহ দুটি নতুন চ্যানেলে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, শংকরদহ এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে ভিন্ন চ্যানেল তৈরি হয়ে চর ইচলী হয়ে এসকেএস বাজার দিয়ে একটি, গঙ্গাচড়ার শেষ প্রান্ত সেরাজুল মার্কেটের কাছে সেতুর নিচ দিয়ে অন্য চ্যানেলটি প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন দুটি গতিপথই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তবিবুর রহমান ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতুর মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে পার্শ্ববর্তী ঈদগাহ মাঠটিও। তা রক্ষায় আপাতত জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, যমুনার পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪  ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। কাজিপুর পয়েন্টে বেড়েছে ২৩ সেন্টিমিটার। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিন পানি আরো বাড়বে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। তবে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, গতকাল সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর রামেরকুড়া এলাকায় প্রায় ২০ ফুট বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা